বিশেষ প্রতিনিধি : আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বিভিন্ন ইউনিয়নের মতো ভাটেরা ইউনিয়নেও নির্বাচনী আমেজ জোরালো হয়ে উঠেছে। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যেই অনেকেই ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেছেন। তন্মধ্যে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কমিউিনিটি নেতা বিশিষ্ট সমাজসেবক ও দানবীর মাওলানা সাইফুল আলম সিদ্দিকী শেফুল। তিনি ভাটেরা ইউনিয়নের মাইজগাঁও গ্রামের বাসিন্দা হাজী আকদ্দস আলী সিদ্দিকীর ছেলে। আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে দীর্ঘ চার দশকের আমেরিকার উন্নত জীবন ত্যাগ করে মানুষের খেদমত করার জন্য গত ১৫ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন বলে তিনি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আমার জীবদ্দশায় আমি কোন মানুষের ক্ষতি করিনি। কিন্তু সম্প্রতি আমার দেশে ফেরা নিয়ে আমার প্রতিপক্ষরা নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। আমার জনপ্রিয়তা ও সামাজিক মান-মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার জন্য আমার নির্বাচনী প্রতিপক্ষরাসহ তাদের সমর্থক বিভিন্ন অপপ্রচার শুরু করেছেন আমি নাকি আওয়ামীলীগকে পুনর্বাসন করতে দেশে এসেছি। আমি রাজনীতির জড়িত নই, সামাজিক কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে আমার ছুটে চলা। গত ১৭ অক্টোবর বিভিন্ন অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাকে জড়িয়ে একটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়। ওই সংবাদে বলা হয়েছে, আমি নাকি আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছি। প্রকৃত সত্য হলো, আমি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত নই। যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াত করায় আমাকে আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বলে অ্যাখায়িত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রকৃত সত্য হলো, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা হাজী মনির উদ্দিন। ২০১৬ সালে তিনি মারা গেলে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে একজন ইমাম হিসেবে আমাকে দাওয়াত করা হলে আমি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কোরআন তেলাওয়াত করেছি। শুধু আওয়ামীলীগ নয় ১৯৯৩ সালে বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতা যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেলে সেই সকল অনুষ্ঠানে আমি কোরআন তেলাওয়াত করেছি। বিভিন্ন সময় অনেক দলের নেতাদের সাথে সামাজিক অনুষ্ঠানে ছবি তুলেছি। কিন্তু এটাকে পুঁজি করে বর্তমানে আমাকে জড়িয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে আমি সেটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, বিগত সময়ে আমি তিন বার ভাটেরা ইউনিয়নে নির্বাচন করলে সামান্য ভোটের ব্যবধানে আমি পরাজিত হয়েছি। দুই বার নির্বাচনে আমাকে ষড়যন্ত্র করে হারানো হয়েছে। এবার আমি সর্বস্তরের মানুষের দোয়া ও সহযোগিতা নিয়ে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবো।
সাইফুল আলম সিদ্দিকী শেফুল আরো বলেন, আমার জন্মমাটি ভাটেরা ইউনিয়নের মানুষের খেদমত করার জন্য ৪০ বছরের আমেরিকার জীবনে ইতি টেনে দেশে এসেছি। সমাজ সেবাই আমার লক্ষ্য, সমাজ উন্নয়নের কাজই আমার কর্ম। আমি চাই ভাটেরা ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও মডেল ইউনিয়নে পরিণত করবো। যেখানে থাকবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন। ইউনিয়ন পরিষদ হবে জনগণের সেবার কেন্দ্র যেখানে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মের সুযোগ থাকবে না। ভাটেরা ইউনিয়নের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ইউনিয়নের সম্মানিত জনগণ আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চেয়েছেন, আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। ছোট-বড় ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের কাছে আমি দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করি।
জনগণের পাশে থাকার প্রত্যয় নিয়ে সাইফুল আলম সিদ্দিকী শেফুল বলেন, মানুষের সেবা করা আমার জন্য ইবাদত। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে এলাকার সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ‘ভাটেরা ইউনিয়নের মানুষ নানা ধরনের নাগরিক সমস্যার মুখোমুখি হন। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নসহ ইউনিয়নের মানুষের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই।’ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে পরিকল্পিতভাবে কাজ করবো। এছাড়া তরুণদের জন্য খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকান্ডের সুযোগ সৃষ্টি, বেকার যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে কাজ করা এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে কোনো দল, মত বা শ্রেণির মানুষকে আলাদা করে দেখব না। ভাটেরা ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষের জন্য সমানভাবে কাজ করতে চাই। সেবার মাধ্যমে সঠিক ইনসাফ ও শান্তির ভাটেরা ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। বিশেষ করে প্রবাসী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবো। ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মকান্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিতে চাই। সকলের সহযোগিতায় ভাটেরা ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, উন্নত ও মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করতে চাই।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভাটেরা ইউনিয়নে শিক্ষা বিস্তার ব্যাপক অবদান রেখেছেন মাওলানা শেখ সাইফুল আলম সিদ্দিকী শেফুল। তন্মধ্যে ভাটেরা মদিনাতুল উলুম সাইফুল তাহমিনা ফাজিল মাদ্রাসা, বদরুল নুরুল ইবতেদায়ী সুন্নি মাদ্রাসা, আকদ্দস আনোয়ারা জামে মসজিদ, গাজীর মোকাম হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা, কুতুব ছমরুন হাফিজিয়া মাদ্রাসা, সাত দাদা জামে মসজিদ তিনি প্রতিষ্ঠা করেন। এরমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান তিনি প্রদান করেন। এছাড়া ভাটেরা শাহী ঈদগাহ ও কবরস্থান প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন তিনি। ভাটেরার আরো অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের আর্থিক সহযোগিতা করেছেন তিনি।
ভাটেরা ইউনিয়নের সাধারণ ভোটার ও জনগণের সাথে কথা বললে তারা জানান, সাইফুল আলম সিদ্দিকী শেফুল ইউনিয়নের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সকল বিপদে আপদে এগিয়ে আসেন। বিভিন্ন দুর্যোগে তিনি অতন্দ্র প্রহরীর মতো মানুষের পাশে ছিলেন। বিশেষ করে ইউনিয়নের অনেক দরিদ্র মেয়ের বিয়ে, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলমত নির্বিশেষে উন্নয়নের স্বার্থে সমাজসেবক সাইফুল আলম সিদ্দিকীকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান ইউনিয়নের জনগণ। তারা আরো জানান, দল-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ তার আচার-ব্যবহারে মুগ্ধ। তাছাড়া তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নিবেদিত প্রাণ। জনসেবার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে ব্যাপক সু-পরিচিতি লাভ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জনপ্রতিনিধি না হয়েও প্রবাসে থেকেও নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন সাধারণ মানুষের সেবায়। সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য করেছেন সাধারণ মানুষের কল্যাণার্থে। বিভিন্ন দুর্যোগে তিনি তাঁর সাধ্য অনুযায়ী সাধারণ মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করে গেছেন। তিনি নিজেকে মানুষের সেবায় উৎসর্গ করে দিতে চান।

