জুড়ীর ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বামী স্ত্রী সহ ১১ জন নৌকা  প্রতিক পেতে চান

হারিস মোহাম্মদ: মৌলভীবাজার জেলার জুড়ীতে আগামী ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে উপজেলার সীমান্তবর্তী  ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এ নির্বাচন কে ঘিরে পুরো ইউনিয়নের ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুক আহমদ ও তাঁর স্ত্রী শিরিন আক্তার নৌকা প্রতীক চাওয়ায় উপজেলা জুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে,  উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুক আহমদের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা করেছিলেন তাঁর স্ত্রী শিরিন আক্তার। এ মামলায় মাসুকের বিরুদ্ধে দুই দফায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছিল। শিরিন আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক।
জানা গেছে, গতকাল বুধবার বিকেল পাঁচটা থেকে উপজেলা সদরের বড় মসজিদ সড়ক এলাকায় অবস্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত গ্রহণ শুরু হয়। এ সময় সেখানে দলের উপজেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাসুক মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রিংকু রঞ্জন দাসসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক আহমদ ও তাঁর স্ত্রী শিরিন আক্তার জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন। এর পর ফুলতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক আহমদের বড় ভাইয়ের ছেলে গোলাম জাকারিয়া, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফয়াজ আলীর ছেলে আবদুল আলিম, ইউনিয়ন যুবলীগের অহ্বায়ক জায়েদ আহমদ, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক.শওকত আলী, ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল বাছিদ, সানি পান্ডে, ছাত্রলীগের নেতা গিয়াস উদ্দিন ও আবদুল লতিফ জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উপজেলার ফুলতলা বাজারের বাসিন্দা মাসুক আহমদের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী কুলাউড়া উপজেলার আমতৈল গ্রামের শিরিন আক্তারের বিয়ে হয়। এটি মাসুক আহমদের দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়েতে শিরিনের পরিবার যৌতুক হিসেবে স্বর্ণালংকার, আসবাবসহ পাঁচ লাখ টাকার মালামাল দেয়। এই দম্পতির  সংসারে ১৮ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছেন।
এজাহারে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই মাসুক ব্যবসার জন্য স্ত্রী শিরিনের কাছে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করতে থাকেন। শিরিন তাঁকে সাত লাখ টাকা ধার করে এনে দেন। পরে মাসুক আবার ২০ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ দেন। ওই টাকা দিতে অপারগতা জানালে মাসুক স্ত্রীর ওপর মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। গত ২৭ এপ্রিল এবং ২৫ জুন দুই দফায় তিনি স্ত্রীকে মারধর করেন। এ সময় মাকে রক্ষা করতে গেলে মেয়েও মারধরের শিকার হন। এরপর মাসুক মেয়েসহ শিরিন আক্তারকে বাসা থেকে তাড়িয়ে দেন। পরে শিরিন মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। এ অবস্থায় ৩০ জুন তিনি বাদী হয়ে মাসুক আহমদকে আসামি করে মৌলভীবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মামলা করেন। মামলার পর আদালত মাসুকের বিরুদ্ধে দুই দফা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে বিষয়টি আপসে নিষ্পত্তির শর্তে তাঁকে জামিন দেন আদালত। মামলাটি বিচারাধীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *