জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার:
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা ছাত্রদলের কর্মী ছিলেন এক সময় তিনি। ছাত্রদলের বিভিন্ন মিছিল মিটিংয়েও ছিলেন সক্রিয়। তখন মাত্র আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্ত ধীরে ধীরে নিজের আভির্ভাব ঘটান রাজনগর উপজেলা ছাত্রলীগে। সক্রিয় কর্মী হন ছাত্রলীগের। আর এই সক্রিয়তার পুরস্কারও পেয়ে যান তিনি। একেবারে চলে আসেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের মঞ্চ উপ-কমিটিতে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলনের মঞ্চ উপ-কমিটিতেই স্থান পেয়ে যান তিনি। তিনি হলেন রাজনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের গয়ঘর গ্রামের উমাপদ দত্তের ছেলে অনুপম দত্ত। বর্তমানে তিনি উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে কপিস্ট হিসেবে রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজনগর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের সাবেক অফিস সহকারী (কেরানী) উমাপদ দত্তের ছেলে অনুপম দত্ত ছাত্রজীবন শুরু করেন ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে। পিতার কল্যাণে ২০১১ সালেই ঢুকে পড়েন রাজনগর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে কপিস্ট হিসেবে। অনুপম দত্ত ছাত্রদলের বিভিন্ন মিছিল মিটিংয়ে ছিলেন সক্রিয়। কলেজ ছাত্রদলের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদেও আসার কথা ছিল তার। আওয়ামী লীগের প্রথম দুই ধাপে রাজনীতি করেছেন ছাত্রদলের সঙ্গে। এমনটিই জানালেন রাজনগর উপজেলা ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতা। কিন্ত আস্তে আস্তে সক্রিয় হয়ে ওঠেন ছাত্রলীগে। ভালো লবিংয়ের কারণে এক সময় রাজনগর উপজেলা ছাত্রলীগেও বাগিয়ে নেন পদ। অতি সম্প্রতি এক লাফে উঠে এলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে। গত ৫ই ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সম্পাদকের স্বাক্ষরিক প্যাডে অনুপম দত্তকে ৩০তম জাতীয় সম্মেলনের মঞ্চ উপ-কমিটিতে রাখা হয়েছে।
রাজনগর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রায়হান আহমদ বলেন, অনুপম দত্ত ছাত্রদলের সক্রিয় সদস্য ছিল। আওয়ামী লীগের গত দুই টার্মেও সে আমাদের সঙ্গে সক্রিয় ছিল। কলেজ কমিটিতে সে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসার কথা ছিল। পরে সে আস্তে আস্তে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। ছাত্রলীগের কমিটিতে আসার বিষয়ে বলেন, বিষয়টি আমার তেমন জানা নেই। এ ব্যাপারে জানতে অনুপম দত্তের মোবাইল ফোনে কল করলে তিনি বলেন, আপনি যে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন আমি বুঝেছি। বিষয়টি ফোনে বলা যাবে না। তিনি চা খাওয়ার প্রস্তাব দিয়ে বলেন, আমি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চাকরি করি, আমার অফিসে আসেন, চা খেয়ে কথা বলবো। এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমিরুল ইসলাম চৌধুরী আমিনের মোবাইল ফোনে কল করলেও তিনি ফোন ধরেননি। রাজনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রুবেল আহমদ বলেন, সে কীভাবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটিতে এলো আমার জানা নেই। কেন্দ্র বা জেলা থেকে তার ব্যাপারে কোনো তথ্য চাওয়া হয়নি।

