মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
কুলাউড়ায় চুরির অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হয়ে জায়েদ মিয়া (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে কুলাউড়া হাসপাতালে আনার পর তার মৃত্যু ঘটে। নিহত যুবক উপজেলার সদর ইউনিয়নের বালিচিরি গ্রামের মিরজান মিয়ার ছেলে। এলাকাবাসী ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, সদর ইউনিয়নের বালিচিরি গ্রামে চাইল্ড কেয়ার একাডেমি নামে একটি কেজি স্কুলের ফ্যান সম্প্রতি চুরি হয়৷ ওই চুরির ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে জায়েদ মিয়াকে আটক করে গণপিটুনি দেয় স্থানীয় এলাকাবাসী। রাত আনুমানিক দশটায় তাকে আটক করে বেধড়ক মারপিট করে এলাকার বিক্ষুব্দ লোকজন। স্থানীয় লোকজন জানান, রাত ১২টার সময় জায়েদকে আহত অবস্থায় অনেকে দেখতে পান৷ এসময় তারা বিষয়টি প্রশাসনকে জানান। পরে স্থানীয় কিছু লোক ও কুলাউড়া থেকে আসা সাধারণ কয়েকজন শিক্ষার্থী এগিয়ে এসে জায়েদকে উদ্ধার করে উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে চাইল্ড কেয়ার একাডেমীতে ফ্যান চুরির ঘটনায় নিহত জায়েদ মৃত্যুর আগে দেয়া জবানবন্দি অনুযায়ী সদর ইউনিয়নের করেরগ্রামের বাসিন্দা কনা মিয়ার ছেলে ছায়াদ আহমদ (২৫) ও নাজিরের চক গ্রামের আউয়াল মিয়ার ছেলে রায়হান (২২) কে আটক করেছে পুলিশ। এই দুইজন নিহত জায়েদের নেতৃত্বে ইউনিয়নে চুরিসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত বলে স্থানীয়রা জানান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের জনতাবাজারে ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমদ পাপ্পুর দোকানে থাকা রবিরবাজার জামে মসজিদের দানবাক্স ও দোকানের ক্যাশ থেকে নগদ টাকা চুরি করে জায়েদসহ তাঁর সহযোগিরা৷ এছাড়া ইউনিয়নের বালিশ্রী গ্রামে কাজল ও ইন্তাজের দোকান থেকে রবিবরবাজার মসজিদের দানবাক্সসহ দোকানের মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। ছায়াদ চুরির ঘটনায় জেলখাটলেও রায়হানের বিরুদ্ধে এলাকায় অনেক সালিসি বৈঠক হয়েছে। জনতা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমদ পাপ্পু জানান, আমার দোকানে দীর্ঘদিন থেকে রবিরবাজার মসজিদের দানবাক্স রয়েছে৷ সম্প্রতি আমার দোকান থেকে মসজিদের দানবাক্সে থাকা ৩৫-৪০ হাজার টাকা চুরি হয় সেই চুরি জায়েদ করেছে বলে স্বীকারোক্তি দেয়৷ এ বিষয়ে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি৷
এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিনয় ভূষন রায় মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত যুবকের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে৷ মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তক্রমে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে৷
