গত ২ জুলাই (বুধবার) বিকাল ৪টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার একটি ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
জানা যায়, চেক গ্রহণের পর তরফদার মামুন ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে মৌলভীবাজারগামী ট্রেনে যাত্রা শুরু করেন। ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে থামলে তিনি সিটে বসা অবস্থায় ছিলেন। এ সময় ২৫-৩০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল ট্রেনের ভেতরে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক নামিয়ে নেয় এবং প্ল্যাটফর্মের সামনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর প্রকাশ্যে হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রকাশ্যে একটি রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। যাত্রীদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়, আসন দখল, ট্রেনের দরজায় জটলা তৈরি— এসব যেন প্রতিদিনের ঘটনা। সাধারণ যাত্রীদের কাছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশন এক আতঙ্কের নাম।
অভিযোগ রয়েছে, স্টেশনের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি একটি প্রভাবশালী চক্রের হাতে চলে গেছে। ট্রেন থামার সঙ্গে সঙ্গেই হুমকি, ধমকি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে যাত্রীদের হয়রানি করা হয়। ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
হামলার সময় সাংবাদিক তরফদার মামুনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
মৌলভীবাজার জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং সাংবাদিক সমাজ এই বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একইসঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পথে এমন হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর চরম আঘাত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

