দক্ষ ও মানবিক মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ইসরাইল হোসেন

জেলা প্রতিনিধিমৌলভীবাজার:

জেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে নতুন গতির সঞ্চার ঘটিয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদানের পর থেকেই জেলা প্রশাসনকে স্বচ্ছ ও দুর্ণীতি মুক্ত জনপ্রশাসন হিসেবে গড়তে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর পরই সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে মতবিনিময়কালে দেখা গেছে নির্ভীক, নিরহংকার ও সদালাপী এই মানুষটির মনে রয়েছে নানান স্বপ্ন ও উদ্ভাবনী ভাবনা যা তিনি বাস্তবায়ন করার জন্য বদ্ধপরিকর। সরকারের সকল এজেন্ডা বাস্তবায়নের পাশাপাশি সমাজের সর্বশ্রেণী মানুষের সার্বিক কল্যাণে নিরন্তর ব্যস্ত থাকেন। তিনি ও তার টিম জেলায় ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। মানুষের প্রতি সহমর্মীতা আর সহৃদয়তা মানবপ্রেমের অঙ্গীভূত রূপ। আর মানবপ্রেমই পর্যবসিত হয় স্রষ্টাপ্রেমে। জেলা প্রশাসক মোঃ ইসরাইল হোসেন শত ব্যস্ততার মধ্যেও সপ্তাহে একদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গণশুনানী’তে আগতদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন, সমাধানও দেন। তার দরজা রাত অবদি সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকে সবার সাথেই হাসি মুখে কথা বলে কাজ যান অবিরত নেই কোন অসলতা।

এছাড়াও সেবা গ্রহীতাগণ জেলা প্রশাসনের কোন সেবা হতে বঞ্চিত হলেও অভিযোগ জানাতে পারেন জেলা প্রশাসকের মোবাইল নাম্বারে। কিছু মানুষ নিজেদের কর্মগুনে জনমনে স্থান করে নিয়েছেন। তেমনি একজন মৌলভীবাজার জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইসরাইল হোসেন। প্রশাসনের কাজে তিনি যেমন দক্ষ তেমনি একজন মানবিক ব্যক্তিও। বর্তমান জেলা প্রশাসক মোঃ ইসরাইল হোসেন এ জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করার পর তাঁর মানবিক মূল্যবোধ এবং কর্মদক্ষতায় জেলাবাসী মুগ্ধ। সরকারি সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে সহায়তা করে যাচ্ছেন যা সত্যি মানবপ্রেম তথা স্রষ্টাপ্রেমের নামান্তর জেলা প্রশাসক মহোদয় অসহায় শিক্ষার্থীকে ভর্তি’র ব্যবস্থা করেন যাহা বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে মৌলভীবাজার বাসীর জন্য। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও কোটি কোটি টাকার খাস জমি উদ্ধার সহ তিনি কোন ধরনের অন্যায়ের সাথে কখনো আপোস করেন নাই। কারণ তিনি আসার পর এ জেলার অবৈধ বালু, ভূমি, ব্রিকস ফিল্ড সহ অনেক অবৈধ ব্যবসাই এখন বন্ধের পথে।

জেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে শহরাঞ্চলের নাগরিকরাও প্রশাসনিক সেবায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতার স্বাদ পাচ্ছেন। ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র পরিচালনা, শিক্ষা খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, ভূমিসেবা সহজীকরণ, কৃষি ও পল্লি উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনা-এসব কিছুই তাঁর নেতৃত্বের ইতিবাচক প্রতিফলন।

বিশেষ করে দুর্যোগকালীন সময়ে তাঁর পূর্বপ্রস্তুতি ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা বাড়িয়েছে। জেলা প্রশাসক নিজেই জানান, ‘প্রশাসন জনগণের সেবক-এই ভাবনা থেকেই আমি কাজ করি। মানুষের সেবায় থাকতে পারাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’ তাঁর এ ধরনের উদ্যোগ ও দায়িত্বশীলতা ইতোমধ্যেই সামাজিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমের প্রশংসা অর্জন করেছে।

তেমনি মানবিক জেলা প্রশাসক গত রোববার ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে ভূমিহীন ৬৭ জনকে  মৌলভীবাজার জেলার কৃষি খাস জমি বন্দোবস্তের দলিল হস্তান্তর করেন। জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মোছাঃ শাহীনা আক্তারের সভাপতিত্বে দলিল হস্তান্তর করেন প্রধান অতিথি ছিলেন মোঃ ইসরাইল হোসেন । দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ৭টি  উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভূমি।  এ সময় জেলার ৬৭ জন ভূমিহীন পরিবার তাদের জমির দলিল বুঝে নেন।

জেলা প্রশাসক জানান, তিনি জয়েন্ট করার পর থেকে প্রকৃত ভূমিহীনদের তালিকা প্রস্তুত করতে নির্দেশ দেন। তারই আলোকে এপর্যন্ত ১০৯ জনকে তালিকাভোক্ত করে এর মধ্যে থেকে ৬৭ জনকে দলিল ও পরচা বুঝিয়ে দেয়া হলো। এ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি। প্রত্যেকের মধ্যে ৩ শতাংশ শেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ভূমি দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে জেলায় বেশকিছু সরকারী জমি অবৈধ দখল মুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। জমির দলিল হাতে পেয়ে অনেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তারা বলেন, অনেকেই দীর্ঘদিন থেকে অন্যের বাড়িতে আশ্রিত থাকতেন, এখন তাদের নিজের জমি হয়েছে এতে তারা ভীষণ খুশি।  জেলার ৭ টি উপজেলার মানুষ এই সহায়তা পান জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে।

মৌলভীবাজারের বালু মহল ইজারা দিয়ে রেকর্ড পরিমান ইজারা আদায় করেছেন তিনি। কোন বিশেষ প্রয়োজনে তাঁর সাথে দেখা করতে চেয়ে সুযোগ পাওয়া যায়নি এমন ঘটনা বিরল।

সাক্ষাৎ প্রত্যাশী মানুষের কুশলাদি জিজ্ঞাসা করে তাদের সমস্যা বা দুর্ভোগের কার্যকর সমাধানে যথাসাধ্য চেষ্টা করা, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী, অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া, চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা।

এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন আমরা জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। স্বচ্ছ ও দুর্ণীতি মুক্ত জনপ্রশাসনকে জনকল্যাণে জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দিতে সকলের সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

জেলার সচেতন মহল বলেন, একটি জেলার উন্নয়নে জেলা প্রশাসকের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসক সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে জেলার সার্বিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করেন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেন। এছাড়াও তিনি জনগণের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করেন এবং সরকারি বিভিন্ন সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সচেষ্ট হন। এই কারণে কর্ম দক্ষতা ও জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন জেলা প্রশাসক।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, জেলা প্রশাসক মোঃ ইসরাইল হোসেন এই নিরলস প্রয়াস ভবিষ্যতেও মৌলভীবাজারকে আরও উন্নত ও মানবিক প্রশাসনের মডেলে পরিণত করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *