জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: সারাদেশের ন্যায় আগামী ২৮ জুন একযোগে কুলাউড়া উপজেলায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে উপজেলার ৩১৩টি কেন্দ্রে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এবারের ক্যাম্পেইনের আওতায় কুলাউড়া উপজেলায় মোট ৪৪ হাজার ৪০০ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস ২৯ দিন বয়সী ৩৯ হাজার ৫৫০ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল এবং ১ বছর থেকে ৪ বছর ১১ মাস ২৯ দিন বয়সী ৪ হাজার ৮৫০ জন শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে নিজ নিজ এলাকার শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং ব্যাপক প্রচার কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।
কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: বর্ণালী দাস বলেন, ‘বাংলাদেশের অনেক শিশু এখনও ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতিতে ভুগছে। এর অভাবে শিশুরা জেরোফথ্যালমিয়া বা রাতকানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়া হাম ও নিউমোনিয়ার মতো রোগের তীব্রতা বেড়ে যায়।
ভিটামিন ‘এ’ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’ ‘শিশুদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়ে শিশুদের ক্যাম্পে নিয়ে আসা প্রয়োজন।’এদিন যে সব শিশু টিকা খাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে, তাদেরকে পরদিন ইপিআই কেন্দ্রে খাওয়ানো হবে। তিনি শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভিভাবকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভিটামিন ‘এ’ অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয় এবং শিশুর মৃত্যুঝুঁকি কমায়। ‘আগামী ২৮ জুন উপজেলার নির্ধারিত বয়সী প্রতিটি শিশু যেন ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল গ্রহণ করতে পারে, সে লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং শতভাগ বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য বিভাগ বদ্ধপরিকর। স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতার মাধ্যমে উপজেলায় শতভাগ শিশু এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আসবে।
কুলাউড়া উপজেলার মোট জনসংখ্যা ৩ লাখ ৩ হাজার ২০ জন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

