অবশেষে নিখোঁজ শিশুটি ফিরলো স্বজনদের কাছে

মাহফুজ শাকিল: ১০ বছরের শিশু সোহাগ। গত ১ আগস্ট সে চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনযোগে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে চলে আসে। পরে ২ আগস্ট রাত সাড়ে এগারোটায় সিলেট থেকে উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে অজ্ঞাতনামা এক নারীর সাথে সে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এসময় ট্রেনে থাকা কিছু সচেতন যাত্রীদের সন্দেহ হয় ওই মহিলাকে নিয়ে। পরবর্তীতে যাত্রীরা ওই শিশুটিকে অজ্ঞাত নারীর কাছ থেকে উদ্ধার করে কুলাউড়া রেলওয়ে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে রেলওয়ে থানার এসআই অমর চন্দ্র বিশ্বাস শিশুটির সাথে কথা বলে তার স্বজনের ঠিকানা সংগ্রহ করেন এবং চট্টগ্রাম ডবলমুরিং থানা পুলিশের সহায়তায় স্বজনদের সন্ধান পুরোপুরি নিশ্চিত করেন। এদিকে রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি কুলাউড়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে জানানো হলে ওই অফিসের শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মী জাহানারা বেগম রেলওয়ে থানায় উপস্থিত হয়ে শিশুটির সঙ্গে কথা বলেন। এসময় শিশুটির মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং প্রদান করে নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করেন এবং ভবিষ্যতে কোন বিপদে পড়লে জাতীয় শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। একপর্যায়ে শিশুর খালা আকলিমার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করার পর গত ৩ আগস্ট চট্টগ্রামগামী ‘পাহাড়িকা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের কর্তব্যরত টিজি পার্টির কনস্টেবল রাশেদুল রানার জিম্মায় শিশুটিকে নিরাপদে তুলে দেয়া হয়। এরপর রাশেদুল রানা চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর শিশু সোহাগকে তার আত্মীয় আরিফ ও আকলিমার কাছে হস্তান্তর করেন। এ ঘটনায় রেলওয়ে থানার পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ওই শিশু জানায়, তার পিতা আব্দুল করিম একজন মানসিক ভারসাম্যহীন। মাতা মৃত টুনি বেগম। চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার মহুরীপাড়া এলাকার মানিক জমিদারের কলোনির বাসিন্দা তার স্বজন আরিফ (খালু) ও আকলিমা (খালা) এর সাথে সে বসবাস করে।

কুলাউড়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মী জাহানারা বেগম বলেন, ট্রেনে থাকা সাধারণ যাত্রীদের সচেতনতা, কুলাউড়া ও ডবলমুরিং রেলওয়ে পুলিশ এবং কুলাউড়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সময়োপযোগী ও মানবিক সমন্বয়ে শিশুটি আজ নিরাপদে স্বজনদের কাছে ফিরে গেছে এটাই আমাদের তৃপ্তি। শিশুর নিরাপত্তায় সর্বদা সবাইকে সচেতন থাকার আহবান জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *