গত ২৩ অক্টোবর বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “কুলাউড়ার ভাটেরায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ওলামা লীগ নেতা সাইফুল সিদ্দেকী সেফুলের অপতৎপরতা” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের সাথে ভিন্নমত পোষণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভাটেরা ইউনিয়নের মাইজগাঁও গ্রামের বাসিন্দা হাজী আকদ্দস আলী সিদ্দিকীর ছেলে, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কমিউিনিটি নেতা, বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী ও দানবীর মাওলানা সাইফুল আলম সিদ্দিকী শেফুল। প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছি। সেখানে থেকে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের কষ্টার্জিত উপার্জন থেকে নিজ জন্মমাটি ভাটেরার মানুষের কল্যাণে সবসময় নিয়োজিত রয়েছি। আমাদের পরিবার সবসময় ভাটেরার মানুষের উন্নয়নের কথা চিন্তা করেছে। সম্প্রতি আমার দেশে ফেরা নিয়ে এলাকার একটি স্বার্থানেষী মহলসহ আমার নির্বাচনী প্রতিপক্ষরা নানা ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন। এরই অংশ হিসেবে আমিসহ আমার পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করে নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিপক্ষরা। তথ্য-প্রমাণ ছাড়া আমাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে সামাজিকভাবে আমার ও আমার পরিবারের মানমর্যাদা হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি এইসকল অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অথচও এখন যারা আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছেন তারা একসময় আমাদের পরিবারের কাছ থেকে সবধরণের সহযোগিতা পেয়েছিল। কিন্তু দু:খের বিষয় হলেও সত্য যে, সময়ের পরিবর্তনে ওইসকল ব্যক্তিরা এখন তাদের রুপ পাল্টিয়েছে। আশা করছি, তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে একদিন।
প্রতিবাদলিপিতে সাইফুল আলম সিদ্দিকী শেফুল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বলেন, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকা-, নির্বাচন সংক্রান্ত অনিয়ম, অগ্নিসংযোগ, মামলা ও ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে সেগুলো সঠিক নয়। তাঁরা আরও বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সবার রয়েছে। তবে সেই স্বাধীনতার অপব্যবহার করে যাচাইহীন তথ্য প্রচার, ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণœ করা কিংবা কোনো পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা উচিত নয়। দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও গণমাধ্যমের উচিত কোনো অভিযোগ প্রচারের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই করা। কিন্তু প্রকাশিত সংবাদে কোন বক্তব্য নেয়া হয়নি। এতে প্রমাণ করে প্রতিপক্ষের লোকদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এসব সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমার জন্মমাটি ভাটেরা ইউনিয়নের মানুষের সেবা করার জন্য ৪০ বছরের আমেরিকার জীবনে ইতি টেনে দেশে এসেছি। আমার জীবদ্দশায় আমি কোন মানুষের ক্ষতি করিনি সহযোগিতা ছাড়া। আমার জনপ্রিয়তা ও সামাজিক মান-মর্যাদা ক্ষুণœ করার জন্য প্রতিপক্ষরা বিভিন্ন অপপ্রচার শুরু করেছেন আমি নাকি আওয়ামীলীগকে পুনর্বাসন করতে দেশে এসেছি। সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। ওই সংবাদে বলা হয়েছে, আমি নাকি ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছি। প্রকৃত সত্য হলো, আমি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত নই। যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠানে একজন ইমাম হিসেবে আমাকে দাওয়াত করা হলে আমি সেইসকল অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে কোরআন তেলাওয়াত করেছি। যুক্তরাষ্ট্রে আমার ইমামতি করার বয়স প্রায় ৪০ বছর। কিন্তু বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমার সেই কোরআন তেলাওয়াত করাকে পুঁজি করে বর্তমানে আমাকে জড়িয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে আমি সেটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে আমি তিন বার ভাটেরা ইউনিয়নে নির্বাচন করলে সামান্য ভোটের ব্যবধানে আমি পরাজিত হয়েছি। দুই বার নির্বাচনে আমাকে ষড়যন্ত্র করে হারানো হয়েছে। এবার আমি সর্বস্তরের মানুষের দোয়া ও সহযোগিতা নিয়ে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবো। সমাজ সেবাই আমার লক্ষ্য, সমাজ উন্নয়নের কাজই আমার কর্ম। আমি চাই ভাটেরা ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও মডেল ইউনিয়নে পরিণত করবো।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভাটেরা ইউনিয়নে শিক্ষা বিস্তার ব্যাপক অবদান রেখেছেন মাওলানা শেখ সাইফুল আলম সিদ্দিকী শেফুল। তন্মধ্যে ভাটেরা মদিনাতুল উলুম সাইফুল তাহমিনা ফাজিল মাদ্রাসা, বদরুল নুরুল ইবতেদায়ী সুন্নি মাদ্রাসা, আকদ্দস আনোয়ারা জামে মসজিদ, গাজীর মোকাম হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা, কুতুব ছমরুন হাফিজিয়া মাদ্রাসা, সাত দাদা জামে মসজিদ তিনি প্রতিষ্ঠা করেন। এরমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান তিনি প্রদান করেন। এছাড়া ভাটেরা শাহী ঈদগাহ ও কবরস্থান প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন তিনি। ভাটেরার আরো অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের আর্থিক সহযোগিতা করেছেন তিনি। বিজ্ঞপ্তি

