সিকৃবিতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) দুপুর দুইটায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ ও অপর একটি বিদ্রোহী গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিকেল ৪টা পর্যন্ত উভয়পক্ষের মধ্যে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় জানা যায়নি। এদের মধ্যে গুরুতর আহত একজনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন।

জানা গেছে, কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ছাত্রলীগের কর্মীসভা দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে বাঁধা দেন ছাত্রলীগ শাখা সভাপতি আশিকুর রহমান ও সেক্রেটারি এমাদুল হোসেনের বিদ্রোহী সহসভাপতি শরীফ হোসাইন, সাব্বির মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক আরমান হোসাইন, আকাশ ভূইয়া ও প্রান্ত ইসলামের নেতৃত্বে বিদ্রোহী গ্রুপ। এসময় দুপক্ষের অনুসারীরা সভাস্থলে এসে অবস্থান নেয়। তখন উভয় পক্ষে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার বিকাল ৫টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

পুলিশ জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি আশিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. এমদাদুল হোসেন আজ শুক্রবার বিকালে কর্মীসভা ডেকেছিলেন। তবে দলের অন্য একটি বলয়ের নেতা-কর্মীরা সভা আয়োজন না করতে বলছিলেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে শুক্রবার দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা চলছিল। একপর্যায়ে বেলা পৌনে তিনটার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

এসময় সহ সভাপতি সাব্বির মোল্লা ও তার অনুসারী জুনায়েদ আহমেদ শাহ পরান হলে ঢুকে কয়েকটি কক্ষ ভাঙ্গচুর করেন। কক্ষগুলোতে সভাপতি আশিকুর রহমানের অনুসারীরা থাকতেন বলে জানা গেছে।

ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলেও আতংক ছড়িয়ে পড়ে। দুইপক্ষকেই হলে সশস্ত্র অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কর্মীসভা চলাকালে ছাত্রলীগের আদর্শবিরোধী কয়েকজন হামলার চেষ্টা করে। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের প্রতিহত করেছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মনিরুল ইসলাম জানান, ছাত্রলীগের সভাপতি আশিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এমাদুল হোসাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদীয় ছাত্রলীগের কর্মীসভা আয়োজনের জন্য অনুমতি চেয়েছিল। তাদেরকে শান্তিপূর্ণভাবে সভা করার অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু হঠাৎ করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আনিসুর রহমান বলেন, ‘পুলিশ ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছে। দুই পক্ষ ঢিল ছোঁড়াছুড়ি করছে। নেতাদের ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।’

—-ইউএনবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *