চৌধুরী ভাস্কর হোম : মৌলভীবাজার জেলার একটি উপজেলা নিয়ে একটি সংসদীয় আসন। সেটি জেলার কুলাউড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-২ আসন। হাওর চা বাগান পাহাড় টিলা পরিবেষ্টিত এই আসনে জাতীয় থেকে স্থানীয় ভাবে অনেক নেতা তৈরি করলেও সংসদ নির্বাচন গুলোতে যখন যে দল ক্ষমতায় গিয়েছে। এমপিরা কিন্তু সেই দলের হয়ে নেতৃত্ব না দেওয়ায় বরাবরই উন্নয়ন বঞ্চিত থেকে গেছে এই আসনের প্রতিটি ইউনিয়ন। যার ব্যতিক্রম এবারও হয়েছে। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতাকে ভেঙে দিয়ে জনপ্রতিনিধি বা সংসদ সদস্য না হয়েও এলাকার জন্য হাজার কোটি টাকার একের পর এক উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন মোহাম্মদ আবু জাফর রাজু। তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ হলেও তার আরেকটি বড় পরিচয় তিনি এই এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য, মাঠি ও মানুষের নেতা, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর মরহুম আব্দুল জব্বারের সন্তান। তাই বাবার আদর্শককে অনুসরণ করে একের পর এক হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ এনে এই আসনের জন্য উন্নয়ন করে যাচ্ছেন। এনিয়ে উপজেলার প্রতিটি শ্রেণীর পেশার মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্য। সবার একটাই প্রত্যাশা তার নেতৃত্বে আগামী দিনের স্মাট কুলাউড়া দেখতে চান এলাকার মানুষ।
মোহাম্মদ আবু জাফর রাজু। তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ পদে দায়িত্বে আছেন। তাঁর বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায়। তার পিতা সাবেক এমপি ও বাংলাদেশ কৃষক লীগের প্রাক্তন সভাপতি মরহুম আব্দুল জব্বার বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। তিনি একজন কর্মকর্তা হয়েও কুলাউড়া উপজেলার উন্নয়নে ব্যাপক ভ‚মিকা রেখে যাচ্ছেন। যা একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও এতো উন্নয়ন করা হয়ে উঠেনা। তিনি গত তিন/চার বছরে প্রায় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করেছেন। এছাড়া আরও প্রায় হাজার কোটি টাকার উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু প্রস্তাব প্রেরণ করেছেন। এসব উন্নয়নে ইতিমধ্যে এলাকায়ও তিনি একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি হয়ে ঊঠেছেন। এখন তাকে উন্নয়নের বরপুত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন উপজেলার জনসাধারণ।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য আর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে গুরুত্বপ‚র্ণ ভুমিকা রেখেছেন তিনি। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক এবং কলেজ পর্যায়ে নতুন ভবন নির্মান, সংস্কার এবং শিক্ষা কার্যক্ষমের জন্য এনে দিয়েছেন কোটি কোটি টাকার অনুদান। কুলাউড়ার অতি দ্ররিদ্য মানুষের জন্য বিনা পয়সায় নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসা সেবা। ঠিক একই ভাবে এলাকার উন্নয়নে প্রতিটি সেক্টরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন মোহাম্মদ আবু জাফর রাজু। জনপ্রতিনিধি না হয়েও তার এমন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন এলাকাবাসী। সেই স্বপ্নটা এবার বাস্তবেও দেখতে পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কুলাউড়া উপজেলার প্রতিটি শ্রেণীর পেশার মানুষ। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসনে মোহাম্মদ আবু জাফর রাজুকে আগামী দিনের স্মাট কুলাউড়া গড়তে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায় কুলাউড়াবাসী।
কুলাউড়া ব্যাবসায়ী কল্যান সমিতির সাধারন সম্পাদক আতিকুর রহমান আকই বলেন, র্দীঘ দিন থেকে উন্নয়ন বঞ্চিত এই উপজেলা। কিন্তু আসার বাণী হচ্ছে আবু জাফর রাজু প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পদে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে কুলাউড়ার উন্নয়নে সর্বক্ষেত্রে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভ‚মিকা রেখেছেন এলাকার রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ, কালর্বাড সহ স্কুল কলেজে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। যা এর আগে এমন করে কেউ করেনি। তাই রাজুকে কুলাউড়া আসন থেকে সংসদ সদস্য হিাসাবে মনোনিত করার আহবান জানান এই ব্যবসায়ী নেতা।
কুলাউড়া সরকারী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো আবুল কালাম জানান, শুধু প্রতিষ্ঠানিক উন্নয়ন নয়, ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা ক্ষেত্রে কতটুকু উন্নয়ন ঘটেছে সেই বিষয়ে সর্ব প্রথম তাদের পড়ালেখার খোঁজ খবর নেন তিনি। এছাড়াও শিক্ষাউন্নয়ন এবং মেরামতের জন্য নগদ ৩৫ লক্ষ টাকার অনুদান সহ এই কলেজেন জন্য ৬তলা বিশিষ্ট একটি নতুন ভবনের বরাদ্দ এনে দিয়েছেন।
বর্তমান সংসদ সদস্যের প্রতি দু:খ প্রকাশ করে কুলাউড়া মহতোছিন আলী উচ্চবিদ্যালয় এন্ড কলেজ এর অধ্যক্ষ মো. ফয়জুর রহমান বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য নিজেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে এরকম ভ‚মিকা পালন করেননি। আবেদন করেও কোনও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। বরং সংসদ সদস্য না হয়েও আবু জাফর রাজু এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ২ কোটি ২০ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছেন। সর্ব ক্ষেত্রে তিনি যে ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এই উপজেলাকে, এরকম মানুষকে সাধারন মানুষ আশা করে সংসদ সদস্য হিসাবে । রাজুর মত মানুষ রাজনীতিতে আসলে এলাকার মানুষের উপকার হবে।
বিগত তিন চার বছরে কুলাউড়া উপজেলায় তিনি যেসব উন্নয়ন করেছেন তা হলো, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৯৩টি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫৭টি, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৭টি রাস্তার অনুমোদন করেছেন, যার কাজ চলমান রয়েছে। নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার প্রকল্পে ২৩.৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলায় ১ হাজারেরও বেশি গভীর নলক‚প এবং কমিউনিটি নলক‚প স্থাপন বাস্তবায়ানাধিন রয়েছে। কুলাউড়া উপজেলায় গ্রীণ হাউজ গ্যাস নি:সরণ কমানোর লক্ষে সৌর বিদ্যুতায়িত। সড়কবাতি স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষে ৪ কোটি টাকার বারদ্ধ প্রদানের প্রস্তাব প্রেরণ। এছাড়া মসজিদ, মন্দির, শ্বশান ঘাট, কবরস্থান এবং ঈদগাহসহ প্রায় ২০০টি প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ মোহাম্মদ আবু জাফর রাজু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে প্রটোকল অফিসারের দায়িত্ব দেওয়ায় তিনি কুলাউড়ায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি তার দায়িত্বকালীন সময়ে উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে কুলাউড়ার উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্বে দেশ আজ সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর কারণে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও যোগাযোগসহ সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ ভ‚মিহীন থেকে আজ আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন ঘর পেয়েছে। তিনি আরো বলেন, গত সাড়ে চার বছরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কুলাউড়াবাসীর জন্য ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন নানা খাতে। কুলাউড়া শহরের প্রধান সমস্যা যানজট নিরসনে শহরের প্রধান রাস্তাকে ফোরলেনে উন্নীত করে একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য শহর গড়াসহ কুলাউড়া বাসীর জীবন মান উন্নয়নের জন্য অনেকগুলো মেগা প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে।
জনপ্রতিনিধি না হয়েও হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করায় উপজেলার প্রতিটি শ্রেণীর পেশার মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্য। সবার একটাই প্রত্যাশা তার নেতৃত্বে আগামী দিনের স্মার্ট কুলাউড়া দেখতে চান এলাকার মানুষ।

