বরগুনা (জেলা) প্রতিনিধি: বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ৪ কোটি ৩ লাখ টাকার মালামাল ক্রয়ের দরপত্র আহ্বানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নির্দিষ্ট এক ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে দরপত্রে ‘অযৌক্তিক ও কঠিন’ শর্ত জুড়ে দেয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা। ফলে ২৪টি ফরম বিক্রি হলেও রহস্যজনকভাবে জমা পড়েছে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র, যার মালিকানা আবার একই পরিবারের বাবা ও ছেলের হাতে। দরপত্র বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জানুয়ারি ওষুধ, যন্ত্রপাতি, গজ ব্যান্ডেজ, লিলেন সামগ্রী, রি-এজেন্ট এবং আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য ৬টি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দরপত্র খোলার তারিখ ছিল ১৫ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পত্রিকা বিজ্ঞপ্তির নির্ধারিত তারিখে দরপত্র না খুলে ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করেছে (অনলাইনে খোলার তারিখ ছিল ১৬ ফেব্রুয়ারি)। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৬টি প্যাকেজে ২৪টি ফরম বিক্রি হয়েছে। কিন্তু জমা হয়েছে প্রতিটি প্যাকেজে মেসার্স আহসান ব্রাদার্স এবং মেসার্স পিপলাই এন্টারপ্রাইজ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের ১২টি ফরম। যার মালিকানা রয়েছে বরিশালের সত্য কৃষ্ণ পিপলাই এবং তার ছেলে সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই। অপ্রয়োজনীয় এবং কিছু কঠিন শর্ত দেয়ার কারণে বাবা-ছেলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছাড়া আরও কারও ফরম জমা হয়নি বলে দাবি অন্যান্য ঠিকাদারের।
এদিকে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি মেসার্স বায়েজীদ অ্যান্ড কোং সত্ত্বাধিকারী মো. আব্দুর রব এবং আই ম্যান করপোরেশনের সত্ত্বাধিকারী মো. সাইফুল কাওসার ফরাজী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) এবং বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বরাবর লিখিত অভিযোগে বলেন, দরপত্রের প্রাণ হলো স্পেসিফিকেশন। ক্রয়কারী উক্ত ফরমটি পূরণ না করেই দরপত্র লাইভ করা হয়েছে। পিপিআর-২০২৫ অনুযায়ী এটি একটি অমার্জনীয় ত্রুটি। স্পেসিফিকেশন ছাড়া দরদাতার পক্ষে সঠিক দর দেয়া সম্ভব না এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতির দিকে ধাবিত করবে।
এছাড়াও একাধিক অযৌক্তিক শর্তারোপ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইতে কৌশলগত সহযোগিতা করেছেন। যা সরাসরি অনিয়ম এবং দুর্নীতি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা।
এ বিষয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম বলেন, আমরা নিয়মের মধ্যে থেকেই শর্ত দিয়েছি। তারপরও যদি কারও আপত্তি থাকে তারা ইজিপির অভিযোগ বিভাগে গিয়ে অভিযোগ করতে পারবে। যদি সরকার মনে করে এখানে সমস্যা আছে তারা এটা বন্ধ করতে পারে, তদন্ত করতে পারে, যা ইচ্ছে তা করতে পারে।
বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, আমরা কোনও ধরনের অনিয়ম অথবা দুর্নীতির আশ্রয় নিতে চাইনা। এ ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

