কুলাউড়ায় তিন সন্তান ও লক্ষাধিক টাকা নিয়ে স্ত্রী উধাও, মামলা দিয়ে হয়রানি প্রতিকার চেয়ে স্বামীর সংবাদ সম্মেলন

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: কুলাউড়ায় তিন সন্তান ও লক্ষাধিক টাকা নিয়ে স্বামীর ঘর  ছেড়েছেন চতুর স্ত্রী মৌসুমী বেগম। শুধু তাই নয় স্বামীর বিরুদ্ধে গ্রাম আদালতে মামলা দিয়ে পরাজিত হয়ে থানায় দিয়েছেন মিথ্যা অভিযোগ। এছাড়াও মৌসুমী বেগম তার স্বামীর ভাগ্নেকে দিয়ে শশুরের বিরুদ্ধে করেছেন ধর্ষণ মামলা। স্ত্রীর একের পর এক মামলা ও হয়রানিতে অতিষ্ঠ হয়ে স্ত্রীর অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে স্বামী আমিন মিয়া তিনটি শিশু সন্তানকে উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ২০ জুলাই সোমবার বিকেলে কুলাউড়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে সাংবাদিক সম্মেলনে বরমচাল ইউনিয়নের কালিয়ারগর এলাকার বাসিন্দা তাইজুল ইসলামের ছেলে আমিন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, কুলাউড়ার ভাটেরা ইউনিয়নের ইসলামনগর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আলাই মিয়ার মেয়ে মৌসুমী বেগমের সাথে ২০১৬ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সংসার জীবনে তাহমিদ (৮), মরিয়ম (৭) ও আমেনা (৪) নামে তাদের তিন সন্তান রয়েছে। কিন্তু নানা অজুহাতে স্বামী আমিন মিয়ার অবাধ্য হয়ে বাবার বাড়ি যাবার কথা বলে বিভিন্ন স্থানে চলে যায় স্ত্রী মৌসুমী। এটা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ দেখা দিলে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাজ্জাদুর রহমান সাজু একাধিকবার সালিশি বৈঠক করেন। সালিশে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়, স্বামী ও শশুরের অনুমতি ছাড়া বাড়ি থেকে বাহির না হওয়ার জন্য। কিন্তু তাদের কথা অমান্য করে বেপরোয়া চলাফেরা শুরু করেন মৌসুমী। বিভিন্ন সময় নানা মিথ্যা নাটক সৃষ্টি করে প্রথমে বরমচাল ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে মামলা দায়ের করে মৌসুমী। গ্রাম আদালত স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ নিষ্পত্তি করে দিয়ে সুন্দরভাবে সংসার পরিচালনার জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু গ্রাম আদালতের রায় মেনে কিছুদিন ভালো চললেও আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠে মৌসুমী। স্বামীর সাথে খারাপ আচরণ করে ঘরে থাকা স্বামীর উপার্জিত ও গরু বিক্রির লক্ষাধিক টাকাসহ উধাও হয় মৌসুমী। পরে খোঁজখবর নিয়ে স্বামী জানতে পারেন পাশ^বর্তী ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁওয়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছে মৌসুমী। বিষয়টি নিয়ে আমি আমার শশুর বাড়ির লোকজনকে জানালে তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। এরপর বিষয়টি আমার এলাকার মেম্বার ও ভাটেরার মেম্বারকে অবগত করি। তিনি আরো বলেন, আমার ঘর নির্মাণের টাকা নিয়ে আমাকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল করার জন্য থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। আমি আমার স্ত্রীকে ফোনে বাড়িতে আসার জন্য বললে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বলে তাকে তালাক দেয়ার জন্য। যা মোবাইলে রেকর্ড রয়েছে। এছাড়া আমার বৃদ্ধ পিতাকে ফাঁসাতে আমার ভাগ্নী নাদিয়াকে দিয়ে মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দেয়। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত না করে আমার পিতাকে জেলহাজতে প্রেরণ করে। এদিকে মামলার বাদী আমিন মিয়ার ভাগ্নি নাদিয়া আদালতে একটি আপোষনামা দাখিল করেছেন বলে জানা গেছে। এদিকে গত ২২ জুন তিন সন্তানকে ফেরত চেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মৌলভীবাজারে একটি মামলা দায়ের করেন আমিন মিয়া।

কুলাউড়া থানার এসআই আল-আমিন বলেন, বাদীর এজাহারের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড হয়েছে। তারপরও বিষয়টি তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে।

বরমচাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আহমদ খান সুইট বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ আমি সমাধান করে দিয়েছি। তারপরও কিছুদিন পর পর তাদের মধ্যে মনমালিন্য দেখা দিলে বিষয়টি এখন আর আমার নিয়ন্ত্রণে নেই।

কুলাউড়া থানার (ওসি) তদন্ত হাবিবুর রহমান বলেন, মেডিকেল রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হবে। যদি মেডিকেল রিপোর্টে প্রমাণ না আসে তাহলে আসামীকে বাদ দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত। এছাড়া বাদী যে আপোষনামা আদালতে জমা দিয়েছে সেটাও পুলিশের নজরে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *