হাকালুকিতে খাল খনন কাজের উদ্বোধন, হাওরে ফিরবে প্রাণ

জেলা প্রতিনিধিমৌলভীবাজার

এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওর এলাকায় চার কিলোমিটার খাল খননের উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে করে পুরনো খালে এবার ফিরবে প্রাণ। কৃষকের মুখে ফুঁটবে হাঁসি। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় হাকালুকি হাওর তীরবর্তী কুলাউড়ার ভূকশিমইল ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকায় পুকুর খাল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় (কোরবানপুর জোড়াপুল থেকে ধলিয়া হাওরমুখি ছড়া খাল) পর্যন্ত খনন কাজের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. শওকতুল ইসলাম। এসময় তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হাওর তীরের জুড়ী উপজেলার শাহপুর এলাকায় জিয়া খাল খনন করেছিলেন। আজকে আমি এই খালের সংযোগ হাওরমুখী এই ছড়াটির খাল খনন কাজের উদ্বোধন করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। হাকালুকি হাওর অধ্যুষিত আমার নির্বাচনী এলাকায় আমি সাধারণ মানুষের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। এতে দল, মত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা চাই।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মহিউদ্দিন, উপজেলা প্রকৌশলী প্রীতম শিকদার জয়, ভূকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির, সাবেক পৌর কাউন্সিলর হারুনুর রশীদ, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ময়দুল ইসলাম আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক শাহেদ আহমদ, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল বারী সোহেল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন রিপন প্রমুখ।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এই খাল খননের কারণে হাকালুকি হাওরের নাব্যতা সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি কৃষকরা উপকৃত হবে। বোরো আবাদে কৃষকদের জন্য এই খাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী প্রীতম শিকদার জয় বলেন, এলজিইডি’র বাস্তবায়নে ১ কোটি ৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কোরবানপুর জোড়াপুল থেকে ধলিয়া হাওরমুখি ছড়া খাল খনন পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার কাজ চলমান রয়েছে। মৌলভীবাজারের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এজে কনস্ট্রাকশন এই কাজের দায়িত্ব পেয়েছে। কাজটি আমাদের তদারকিতে রয়েছে।

এদিকে দুপুর ১২টায় ভূকশিমইল ইউনিয়নের চিলারকান্দি গ্রামে এনজিও সংস্থা সিএনআরএসের অর্থায়নে কাড়েরা শফিক মিয়ার বাড়ি থেকে চিলারকান্দি গ্রামের শেষ মাথা পর্যন্ত ঝুঁকি প্রশমনের জন্য ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ কিলোমিটার গার্ড ওয়ালসহ রাস্তার কাজের উদ্বোধন করেন কুলাউড়ার সংসদ সদস্য মো: শওকতুল ইসলাম। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মহিউদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, ভূকশিমইল ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জাপান সরকারের আর্থিক সহায়তায় ও উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডির সহযোগিতায়, ভূকশিমইল ইউনিয়ন দূর্যোগ  ব্যবস্থাপনা কমিটি ও এনজিও সংস্থা সিএনআরএসের বাস্তবায়নে ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এ কার্য সম্পাদন করে কুলাউড়ার আব্দুল লতিফের মালিকানাধীন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সৌরভ কনস্ট্রাকশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *