কুলাউড়ায় খাসিয়া পুঞ্জিতে ১২ শতাধিক পান গাছ কর্তনের অভিযোগ

কুলাউড়া প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের দুর্গম ইছাছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে অনন্ত নামের এক চাষীর প্রায় ১২ শতাধিক পান গাছ কর্তনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ইছাছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ ওই চাষি রোববার রাতে কুলাউড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
থানায় লিখিত অভিযোগ ও খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ইছাছড়া পুঞ্জিতে খাসিয়া সম্প্রদায়ের ৪৬টি পরিবার থাকে। এসব পরিবারের লোকজন জীবিকা হিসেবে পান চাষ করেন। সেখানে বিভিন্ন টিলাভূমিতে প্রতিটি পরিবারের পান চাষের আলাদা জমি রয়েছে। অনন্তের জমিতে প্রায় দুই হাজার পান গাছ ছিল। রোববার সকালের দিকে জমিতে গিয়ে অনন্ত দেখতে পান সহ¯্রাধিক পানগাছের গোড়া কাটা। এরপর বিষয়টি তিনি পুঞ্জির অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানান।
ক্ষতিগ্রস্ত অনন্ত বলেন, শনিবার দিবাগত রাতে আমার প্রায় ১২ শতাধিক পান গাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার সকালে জুমে গিয়ে দেখতে পাই আমার প্রায় সকল পান গাছ মধ্য খানে কাটা। পান চাষ আমার একমাত্র জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম ছিলো। আমার সঙ্গে কারো বিরোধ কিংবা শত্রুতাও নেই। কিন্তু কে বা কারা এ পানগাছগুলো কেটেছে তা আমি জানি না। এতে আমার প্রায় তিন-চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি।
কর্মধা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সিলভেস্টার পাঠাং জানান, দুর্বৃত্তরা অনন্তের পানজুমের প্রায় সহ¯্রাধিক পান গাছ কেটে নষ্ট করে ফেলে। এতে একজন পান চাষীর স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে। তিনি জানান, দীর্ঘ কয়েক বছরের চেষ্টার পর একটি পান গাছে পান আসতে শুরু করে, অথচ তার সকল স্বপ্ন ধুলিসাৎ করে দেয়া হয়েছে। এতে অনন্তের কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ অনন্ত নামে একজন এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা কুলাউড়া থানার উপ-পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান সোমবার মুঠোফোনে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিনে ঘটনাস্থলে এসেছি। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *