কুলাউড়ার একজন মানবিক, দূরদর্শী ও কর্মঠ প্রশাসকের বিদায়

হাসান আল মাহমুদ রাজু : কুলাউড়া উপজেলার  নির্বাহী অফিসার মো: মহি উদ্দিন কুলাউড়া কর্মস্থল থেকে বিদায় নিলেন। তিনি কুলাউড়ার একজন মানবিক, দূরদর্শী ও কর্মঠ প্রশাসক ছিলেন। তাহার  কর্ম, সততা ও আন্তরিকতা দিয়ে কুলাউড়াবাসীর  হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন। ইউএনও মহি উদ্দিন  কুলাউড়ার পৌর প্রশাসক সহ স্কুল, কলেজ,মাদ্রাসার বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব পালন করেন। সে সময়ে কুলাউড়ার  বিভিন্ন যায়গায়  উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগে নতুন গতি এসেছিলো। বিশেষ করে দূর্গাপূজা, নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবস্থাপনার উপর তিনি যে গুরুত্ব দিয়েছেন, এবং আগাম বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তিনি বিশেষ ভুমিকা পালন করেন সত্যিই তা প্রশংসনীয়। কুলাউড়ার রাজনৈতিক, সামাজিক,জনপ্রতিনিধি,অফিসার স্টাফ, শিক্ষক,ইমাম,সাংবাদিক, পৌরবাসী,শিক্ষার্থী সাধারণ মানুষ সহ ধর্মবর্ণ সককের সাথে একটি ভালো মানবিক সম্পর্ক গড়ে তুলেন ইউএনও মহি উদ্দিন। কুলাউড়ার সার্বিক উন্নয়ন, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আপনার  সক্রিয় ভূমিকা সর্বদা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।কুলাউড়া এর প্রতি আপনার  আস্থা ও সহযোগিতা সব সময় আমাদের অনুপ্রাণিত করেছেন। নতুন কর্মস্থল আরও সফল ও সম্মানময় হোক এই দোয়া ও কামনা করে সুস্থ্যতা, নিরাপত্তা ও দীর্ঘ কর্মময় জীবন দান করুন এই কামনা করেন উপজেলাবাসী।
১১ মে রাতে কুলাউড়া অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে সম্মিলিত বিদায়ী অনুষ্ঠানে পৃথিম পাশা ও  রবিরবাজার এলাকা বাসীর পক্ষ থেকে উক্ত শুভেচ্ছা স্মারক ইউ এন ও মহি উদ্দিনের হাতে তুলে দেওয়া হয় । এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো খোরশেদ আলম, দৈনিক সমকালের  সাংবাদিক সৈয়দ আশফাক তানভীর, দৈনিক এদিনের  সাংবাদিক হাসান আল মাহমুদ রাজু, দৈনিক কালের কন্ঠ মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি মো. ময়জুল ইসলাম। কুলাউড়া উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে রবিরবাজার এলাকাসহ সদপাশা  স্কুলের উন্নয়নে অবদান রাখেন ইউএনও মো. মহিউদ্দিন। ১১মে সোমবার কুলাউড়ায় ছিল তাঁর শেষ কর্মদিবস।
২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল কুলাউড়ায় যোগদান করে অত্যন্ত সততা ও দক্ষতার সহীত কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসন পরিচালনা করেন। তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে তাঁর সহযোগিতা ছিলো প্রশংসনীয়। তিনি পৌরসভাসহ কুলাউড়া ১৩টি ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধির ন্যায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড করেছেন। বিশেষ করে ৫ আগষ্টের পরে কুলাউড়ার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা নিয়ে একটি সুন্দর কুলাউড়া বির্নিমানে কাজ করেন। তাঁর এই ২ বছরের দায়িত্বকালীন সময়ে কুলাউড়া শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন উন্নয়ন ও রাস্তা উচুকরণ প্রকল্পটি কুলাউড়ার সহক মহলে প্রশংসিত হয়েছে। বিদায়কালীন বক্তেব্যে ইউএনও বলেন- সাংবাদিক সমাজসহ কুলাউড়াবাসীর সহযোগিতার কথা চিরকৃতজ্ঞ চিত্রে স্বরণ করে বলেন, আমি যেখানেই যাই, যে অবস্থায় থাকি না কেনো কুলাউড়াবাসীর সহযোগিতা আজীবন মনে রাখবো। নতুন কর্মস্থলেও সাংবাদিকদের তিনি আমন্ত্রণ জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *