বিশেষ প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নে অবস্থিত পাবই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯১৮ সালে ওই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই বিদ্যালয়ে এক একর ভূমি দান করে একমাত্র ভূমি দাতা হলেন মরহুম হাজী ইয়াকুব আলী। তার প্রথম পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অনা: ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আলী বীরপ্রতীক ও দ্বিতীয় পুত্র মো. আহমদ আলী উভয়ই মারা গেছেন। বর্তমানে মোহাম্মদ আলী ও আহমদ আলীর সন্তানদের মধ্যে পারিবারিক আলোচনার ভিত্তিতে মোহাম্মদ আলীর ছেলে মুহাম্মদ আব্দুল বাতিনকে বিদ্যালয়ের ভূমি দাতা সদস্য হিসেবে মনোনীত করার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুপ্তা ভট্টাচার্য্যর কাছে গত ১৪ জুন লিখিত আবেদন করেন দাতা পরিবারের সদস্য আফজল হোসেন মুলাই ও মো. হেলাল আহমদ। এদিকে গত ১৪ জুন বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় হাজীপুর ইউনিয়নের রজনপুর গ্রামের বাসিন্দা, আইনজীবি আব্দুল মতলিব ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য, আওয়ামীলীগ নেতা মো. তাহির আলী ও পলাতক ইউপি চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অদুদ বক্সের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ডাম কবিরসহ আওয়ামীলীগের নেতাদের নিয়ে প্রধান শিক্ষিকা সুপ্তা ভট্টাচার্য্যকে কৈফিয়ত চেয়ে বলেন, আব্দুল বাতিনকে কোন অবস্থাতেই যেন দাতা সদস্য না করা হয়। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইয়াকুব আলী গত ২৬ জুন প্রধান শিক্ষিকাকে ফোন দিয়ে বলেন, দাতা সদস্য হিসেবে আব্দুল বাতিনকে বাদ দিয়ে তাদের পরিবারের অন্য সদস্যকে দেয়ার জন্য। বিষয়টি প্রধান শিক্ষিকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করলে গত ২৮ জুন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম প্রধান শিক্ষিকাকে অফিসে ডেকে নিয়ে বলেন, দাতা সদস্য থেকে আব্দুল বাতিনকে বাদ দিতে হবে। এদিকে গত ২৯ জুন বিদ্যালয়ের ভূমি দাতা পরিবারের সদস্য মো. হেলাল আহমদকে দাতা সদস্য হিসেবে মনোনীত করার জন্য আরেকটি আবেদন প্রধান শিক্ষক বরাবরে দেন আফজল হোসেন মুলাই ও মুহাম্মদ আব্দুল বাতিন। রাজনৈতিক গ্যাড়াকলে পড়ে বর্তমানে দাতা সদস্য হিসেবে মুহাম্মদ আব্দুল বাতিন, হেলাল আহমদকে বাদ দিয়ে আফজল হোসেন মুলাইকে মনোনীত করার জন্য নানা পায়তারা চলছে। এমনকি ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রস্তাবিত বিদ্যুৎসাহী সদস্য এডভোকেট আব্দুল মতলিবকে সভাপতি করার জন্য এমন পায়তারা চলছে বলে জানা গেছে।
মুহাম্মদ আব্দুল বাতিন এক সময় শমসেরনগরে একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। তিনি বি.এস.সি (অনার্স) সম্পন্ন করেন এবং লন্ডন থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। মুহাম্মদ আব্দুল বাতিন পাবই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সর্বশেষ আহবায়ক কমিটিতে দাতা সদস্য এবং এর আগের কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
এ বিষয়ে আইনজীবি আব্দুল মতলিব মুঠোফোনে বলেন, দাতা সদস্য নিয়ে আমি কোন প্রভাব বিস্তার করছি না। এমনকি বিদ্যালয়ের কমিটিতে সভাপতি হওয়ার কোন ইচ্ছাও আমার নেই। আমি আমার আইন পেশা নিয়ে ব্যস্ত আছি।
হাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইয়াকুব আলী বলেন, আমি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বলেছি, বাতিন যদি বিতর্কিত হন তাহলে তাকে বাদ দিয়ে দাতা পরিবারের অন্য কাউকে দাতা সদস্য দেবার জন্য। তখন প্রধান শিক্ষক জানান, দাতা পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আব্দুল বাতিনকে মনোনীত করা হলে তার নাম প্রস্তাব করে তিনি রেজুলেশন করে ফেলেছেন। এরপর এ বিষয়ে আমি আর কিছুই বলিনি।
এ বিষয়ে পাবই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুপ্তা ভট্টাচার্য্য বলেন, ভূমি দাতা পরিবার থেকে প্রথমে আব্দুল বাতিনের নাম প্রস্তাব করে আবেদন করা হয়। পরে আরেকটি আবেদনে বাতিনকে বাদ দিয়ে হেলাল আহমদকে দাতা সদস্য হিসেবে প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু সেটি এখনো অনুমোদন হয়নি। তিনি আরো বলেন, হাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইয়াকুব আলী ও আইনজীবি আব্দুল মতলিব আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, বাতিনের নাম বাদ দিয়ে তাদের পরিবার থেকে অন্য কাউকে দাতা সদস্য মনোনীত করার জন্য। পরে শিক্ষা অফিসার মহোদয় আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, দাতা পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যাকে দাতা সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হবে তাকে যেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশের দিন আইনজীবি আব্দুল মতলিব স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের নিয়ে আমাকে বলেন, কেন তাদেরকে অভিভাবক সমাবেশে বলা হয়নি। তখন পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় আমি কিছু বলতে পারিনি। বিষয়টি আমি শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি। ওই সভায় নেতৃবৃন্দরা দাতা পরিবারের আরেক সদস্য আফজল হোসেন মুলাইকে দাতা সদস্য করার প্রস্তাব দেন। তখন মুলাই উপস্থিত সবাইকে জানান, আমাদের পারিবারিক সিদ্ধান্ত হয়েছে আব্দুল বাতিনকে দাতা সদস্য হিসেবে রাখতে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, পাবই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির যাবতীয় কার্যক্রম স্বল্প সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, হাজীপুর ইউনিয়নে রজনপুর এলাকায় অবস্থিত হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা:) মাদ্রাসারও ভূমি দাতা হলেন মরহুম হাজী ইয়াকুব আলী। #

