কুলাউড়ায় প্রবাসী সোহেলের ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি না করে দেওয়ার অভিযোগ স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি ও নির্যাতন, ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা, প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: কুলাউড়ায় দুবাই প্রবাসী সোহেল মিয়ার কাছ থেকে দশ লক্ষ টাকা নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি না করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি ভোগদখলে থাকা ওই প্রবাসীর ৫৭ শতক জমির রোপিত ধান জোরপূর্বক ট্যাক্টর দিয়ে হাল চাষ করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছেন জমি বিক্রেতা প্রবাসীর চাচাতো ভাই ইছাক মিয়াসহ তার ছেলেরা। এছাড়া প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি করে আহত করার ঘটনায় ইছাক মিয়াসহ তার তিন ছেলের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী সোহেল মিয়া তাঁর জমি রেজিস্ট্রি দাবি ও স্ত্রীকে নির্যাতনের বিচার চেয়ে আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ২৪ জুলাই শুক্রবার বিকেলে কুলাউড়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভাটেরা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা হাজী আব্দুস সালামের ছেলে প্রবাসী সোহেল মিয়া জানান, ২০০৬ সালে দশ লক্ষ টাকা দিয়ে আমার চাচাতো ভাই ইছাক মিয়ার কাছ থেকে ক্রয় করি। ইছাক মিয়া টাকা গ্রহণ করে উল্লেখিত ভূমি আমাকে দখল বুঝিয়ে দিলেও জমি রেজিস্ট্রি করে দেননি। এ বিষয়ে ইছাক মিয়াকে জমি রেজিস্ট্রি করার কথা বললে তিনি জানান, তোমরা জমি ভোগদখল করো পরবর্তী সময়ে রেজিস্ট্রি করে দিব। এরপর থেকে জমি রেজিস্ট্রি করিয়া দেওয়ার কথা বললে ইছাক মিয়া নানা টালবাহানা করে সময়ক্ষেপন করতে থাকেন। ছুটি কাটিয়ে গত ৩০ জুন আমি প্রবাসে চলে যাই। ইছাক মিয়া গং আমার প্রবাসে থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গত ২১ জুলাই দুপুরে আমার রোপনকৃত ধানী জমির বেড়া উপড়ে ফেলে জমিতে হালচাষ করে ক্ষতিসাধন করে। এসময় আমার স্ত্রী তাছলিমা আক্তার রিপা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিবাদীদেরকে হালচাষ করার কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা আমার স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে আমার স্ত্রী প্রতিবাদ করলে ইছাক মিয়া, তার ছেলে আব্দুল আহাদ, মধু মিয়া ও আকুল মিয়া তাকে মারধর করে জমিতে ফেলে দেয়। এরপর আব্দুল আহাদ ও মধু মিয়া আমার স্ত্রীর পরনের কাপড় ছিড়ে শ্লীলতাহানি করে। এসময় আমার স্ত্রীর গলায় থাকা ১ ভরি স্বর্ণ জোর করে নিয়ে যায় তারা। স্থানীয় লোকজন এসে আমার স্ত্রীকে উদ্ধার করে কুলাউড়া হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।

তিনি বলেন,  গত ২৯ জুন উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এক শালিস বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ইছাক মিয়া গংরা সোহেল মিয়াকে দ্রুত জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়ার জন্য। সর্বশেষ ১১ জুলাই ইছাক মিয়া গং সময় প্রার্থনা করার পর বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ হলেও ইছাক মিয়া গং বৈঠকে হাজির হননি। তারা আমার জমির ফসল ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে ধানী জমির ক্ষতিসাধন করে। এ ঘটনায় গত ২২ জুলাই আমার স্ত্রী বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় ইছাক মিয়াসহ তার তিন ছেলে আব্দুল আহাদ, মধু মিয়া ও আকুল মিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা (নং-১৬) দায়ের করেন। এই ঘটনার শুনার পর আমি ২২ জুলাই দুবাই থেকে বাড়ি চলে আসি। আমার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছে। প্রশাসনসহ সরকারের কাছে আকুল আবেদন, আমার জমি রেজিস্টি করে দেয়ার জন্য যেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে ইছাক মিয়ার ছেলে আব্দুল আহাদ মুঠোফোনে বলেন, প্রবাসী সোহেল মিয়া বর্তমানে যে জমিটি তার বলে দাবি করছেন সেটি আমাদের মালিকানাধীন। সোহেল মিয়া অন্য দাগে আমাদের কাছ থেকে ৮ লক্ষ টাকা দিয়ে জমি ক্রয় করেন। ওইসময় তাদের ত্রুটির কারণে জমি রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে কুলাউড়া থানার এসআই সাদেক আলী বলেন, সরেজমিনে তদন্তে কৃষি জমির ক্ষতিসাধনের প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। আসামীদের গ্রেপ্তারে একাধিকবার অভিযান করেছি। তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *