কুলাউড়া প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মনু নদীর জালালপুর মৌজায় বালু ঘাট বন্ধে প্রশাসনের নীরবতা, হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং-২১৩২/২৫ এর আদেশ বাস্তবায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর পক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করেন রীট পিটিশনকারী আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী হালিম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা গৌরাঙ্গ দে।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তাদির চৌধুরী বলেন, মনু নদীর কুলাউড়ার টিলাগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর এলাকায় হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মহালদার কর্তৃক অবাধে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, তীরবর্তী জনপদ ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী এ বিষয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করলেও কার্যত কোন প্রদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, জালালপুর বালুঘাট বন্ধ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ভুক্তভোগী এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অচিরেই হাইকোর্টের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
জানা যায়, ২০২৬ সালের ৮ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে চলতি ১৪৩৩ সনের ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। কুলাউড়া উপজেলায় মনু নদীর ৯টি মৌজায় বালু মহালের ইজারা পান বর্তমান মহালদার। সরকারি ওই বিজ্ঞপ্তির মন্তব্য কলামে লেখা হয়, মহামান্য হাইকোর্টে রীট মামলা নং- ২১৩২/২০২৫, ১১৯৪৬/২০২৫ এবং ১৪১০০/২০২৫ চলমান রয়েছে। মহামান্য হাইকোর্টে ২১৩২/২০২৫ রীট মামলার নিষ্পত্তি সাপেক্ষে জালালপুর মৌজায় দখলদেহী প্রদান করা হবে।
বালু মহালের ইজারাদার ফয়জুল হক লিটন জানান, বিগত মহালদারের সময়কালে রীট হলেও পরবর্তীতে মহালদারের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন রীট কারী ব্যক্তি। বর্তমানে আমাদের ব্যবসায়িক ক্ষতির জন্য রীট পিটিশনকারী ব্যক্তি নানা ষড়যন্ত্র করে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। কিসের ভিত্তিতে এই রীট করা হয়েছে সেটি আমাদের বোধগম্য নয়। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার বলেন, এখনো অফিসিয়ালি রীটের আদেশ আমাদের কাছে আসেনি। তাই এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। #

