সমালোচকদের চমকে দিলেন তমা

অনলাইন ডেস্ক :

ঢালিউডের ফর্মুলা ছবির নায়িকা হিসেব তমা মির্জার শুরু। এভাবে লম্বা সময়। নাচ-গান-অভিনয়-ফিটনেস, ঘাটতি নেই কিছুতে। কিন্তু কেন যেন ঠিক জ¦লে উঠছিলেন না। যদিও অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। তবে এই পাওয়া না পাওয়ার দোলাচল অতিক্রম করে ক্যারিয়ারের একযুগের মাথায় তমা চমকে দিলেন সমালোচকদের। দেখালেন তার অভিনয় দ্যুতি। রায়হান রাফীর ওয়েব সিনেমা ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’ যার বড় টিভিসি। এরপর একই নির্মাতার অন্তর্জাল সিনেমা ‘৭ নাম্বার ফ্লোর’ দিয়ে চমকে দেন তমা। প্রমাণ করেন, ফর্মুলা ছবির নায়িকা হলেও অভিনয়ের সুযোগ পেলে তিনিও জলের মতো। মূলত সেই ধারাটিই সচল রাখছেন মির্জা পরিবারের এই অভিনেত্রী। এবারও সিনেমা। আবারও ওয়েব। তাকে নিয়ে এবারের ছবি বানিয়েছেন ‘ঊনলৌকিক’-খ্যাত পরিচালক রবিউল আলম রবি। নাম ‘ক্যাফে ডিজায়ার’। যার অন্যতম চরিত্রে আছেন তমা মির্জা। এর বিভিন্ন চরিত্রে আরও আছেন আজাদ আবুল কালাম, ইন্তেখাব দিনার, সোহেল মন্ডল, খাইরুল বাশার, শ্যামল মাওলা, সানজিদা প্রীতি, সারিকা সাবরিন, আইশা খান, ফারহানা হামিদ, প্রিয়ন্তী উর্বী, প্রিয়াম অর্চি, বায়েজিদ হক জোয়ারদারসহ অনেকই। এই সিনেমায় তার চরিত্র বা চমক প্রসঙ্গে এখনই মুখ খুলতে নারাজ তমা। এটুকু শুধু বললেন, ‘সিনেমাটিতে চমৎকার একটা গল্প রয়েছে। কাজটি করে তৃপ্তি পেয়েছি। অনেক মেধাবী শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছি। ভালো অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়েছে। এখানে আমার চরিত্রটিও দারুণ। তবে এ সম্পর্কে এখনই কিছু বলতে চাই না। আশা করছি দর্শক-সমালোচকরা সিনেমাটি দেখে মুগ্ধ হবেন।’ সিরিজের পর এবার সিনেমা নিয়ে ফেরার প্রস্তুতিগুলো কেমন ছিল জানতে চাইলে পরিচালক রবিউল আলম রবি বলেন, ‘‘ঊনলৌকিক’ পরবর্তী কাজে গল্প বলার ধরন ও বিষয়ে পরিবর্তন আনতে চাচ্ছিলাম আমরা। প্রচলিত সাসপেন্স-থ্রিলার, মার্ডার মিস্ট্রি ইত্যাদির বাইরে আর কি করা যায়, ভাবছিলাম। দৈনন্দিন প্রাত্যহিকতা, অস্তিত্ব সংকট, নর-নারীর সম্পর্ক, মানুষের মনস্তত্ত্ব, বাস্তববাদী শৈলী ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করি। সেই প্রেক্ষাপটে শিবু ভাই (শিবব্রত বর্মণ) কিছু চরিত্রের খসড়া তৈরি করেন। তাতে লক্ষ্য করি যে, সবগুলো চরিত্র ও তাদেরকে কেন্দ্র করে তৈরি করা প্লটগুলো মূলত প্রেম, কামনা ও বাসনার অভিন্ন সুতায় গাঁথা।’’ দর্শকদের উদ্দেশে পরিচালক বলেন, ‘যারা চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন, আর যারা সেটা দেখেন, দু’পক্ষ ভিন্ন জগতের বাসিন্দা। চলচ্চিত্রটা তাদের মধ্যে এক যোগাযোগের মাধ্যম। ফলে প্রতিবার কিছু বানাবার পর আমি উদ্বেগে থাকি – দর্শকেরা এটা কীভাবে নেবেন, কতোটা যোগাযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে। এবার দ্বিগুণ উদ্বেগে আছি। কেননা এ ছবিতে আমরা গল্প বলা নিয়ে কিছু নিরীক্ষা করেছি।’ শিবব্রত বর্মণের গল্পে চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক ও লেখক নিজেই। সুমন সরকার সিনোমাটোগ্রাফি, রাশিদ শরীফ শোয়েবের মিউজিক ও সালেহ সোবহান অনীমের সম্পাদনা সিনেমাটিতে অন্যরকম এক মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করেন নির্মাতা। ছবিটি একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে উন্মুক্ত হচ্ছে শিগগিরই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *