কুলাউড়ায় মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে ভুক্তভোগী মন্তর মিয়ার সংবাদ সম্মেলন

কুলাউড়া প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সম্প্রতি সাপ্তাহিক আমার কুলাউড়াসহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে “কুলাউড়ায় বড় ভাই কর্তৃক প্রবাসী ছোট ভাইয়ের ভূমি দখল” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত ওই সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের মুকুন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী মো. মন্তর মিয়া। ১০ মে শনিবার বিকেলে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি প্রকাশিত ওই সংবাদের প্রতিবাদ জানান। লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী মো. মন্তর মিয়া বলেন, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে আমাকে জড়িয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ওই সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, আমি নাকি আমার ছোট ভাইয়ের জায়গা জোরপূর্বক দখল করেছি। অথচ চিরন্তন সত্য কথা হলো যে, আমাদের পারিবারিক মৌরসী ৩৭ শতক সম্পত্তি থেকে আমাদের ছয় ভাইয়ের মধ্যে বন্টন করা হয়। সেখান থেকে আমার বড় ভাই বরমচাল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক উস্তার মিয়ার নামে ৮ শতক, ছোট ভাই সৌদি প্রবাসী আবু তাহের সিপারের নামে ১৩ শতক, আমার নামে ৪ শতক, ছোট ভাই ইমরান আহমদের নামে ৪ শতক, জুয়েল মিয়ার নামে ৪ শতক ও সুহেল আহমদের নামে ৪ শতক জায়গা বন্টন করা হয়। ২০১৭ সালে জমিজমা বিষয়ে সালিশি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, উস্তার মিয়া ও আবু তাহের সিপার মৌরসী সম্পত্তি থেকে বেশি অংশীদার নেয়ার কারণে তারা আমাদের চার ভাইকে পুরনো বাড়ির মতো ঘর তৈরি করে দিবেন। কিন্তু তারা আমার ভাই জুয়েল ও সুহেলকে ঘর তৈরি করে দিলেও দীর্ঘ ৯ বছর অতিবাহিত হলেও আমি ও ছোট ভাই ইমরানের ঘর এখনো তৈরি করে দেয়া হয়নি। যার কারণে আমি একটি জীর্ণ বাঁশ-বেতার ঘরে কোনমতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গনমান্যব্যক্তিবর্গসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বিভিন্ন সময় সালিশি বৈঠক হয়। বৈঠকে সিপার প্রবাসে থাকার কারণে অনেক বৈঠকে উস্তার মিয়া উপস্থিত হননি। একপর্যায়ে সালিশি ব্যক্তিদের নির্দেশে উস্তার মিয়া বৈঠকে উপস্থিত হন। বৈঠকে সবাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেন যেহেতু প্রবাসী সিপার ও শিক্ষক উস্তার আমাদের ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন না সেজন্য তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু উস্তার ও সিপার আজও অবধি কোন টাকা দেয়নি। বরং এখন উল্টো আরো অভিযোগ করতেছে, আমি নাকি সিপারের জমি জোরপূর্বক দখল করেছি। আমাকে হয়রানি করার জন্য ছোট ভাই সিপার তার স্ত্রী সুমিকে দিয়ে আমি, আমার স্ত্রী নাসিমা, আমার মেয়ে রিংকি ও মেয়ের স্বামী সোহেলকে আসামী করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। আমাদের দাবি, ছোট ভাই প্রবাসী আবু তাহের সিপার যদি আর কোন সম্পত্তি পেয়ে থাকে তাহলে সে দেশে আসুক। জায়গা পাওয়ার উপযুক্ততা থাকলে সে জায়গা নিলে আমাদের কোন আপত্তি নেই। বর্তমানে বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতায় আমার বসতঘরটি মেরামত করতে চাইলে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন আমার ভাই সিপার, তার স্ত্রী সুমি ও কৌলা গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম জুয়েল। আমি কারণ জানতে চাইলে সাংবাদিক জুয়েল আমাকে জানায়, তাকে ২০ হাজার টাকা দিলে সে বিষয়টি সমাধান করে দিবে। কিন্তু আমি দরিদ্র ব্যক্তি থাকায় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সে আমার বিরুদ্ধে নিউজ করার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে সে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমাকে আওয়ামীলীগ নেতা ট্যাগ দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত নিউজ করিয়েছে। আমি আওয়ামীলীগ করি কিনা সেটা এলাকার লোকজন জানে। ওই নিউজ প্রকাশ হওয়ার পর এলাকায় আমার পারিবারিক মান মর্যাদা বিনষ্ট হয়েছে। বর্তমানে আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। যার কারণে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমি ওই সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রশাসনসহ সমাজের বিবেকবান মানুষের কাছে অনুরোধ ন্যায়সঙ্গতভাবে আমার প্রতি যেন ন্যায়বিচার করা হয়। এদিকে আমি সংবাদ সম্মেলন শেষ করে স্থানীয় চৌধুরীবাজারে রিকশায় গেলে গতিরোধ করে জুয়েল নামের এক সাংবাদিক। এসময় সে আমাকে হুমকি দিয়ে বলে, কেন সংবাদ সম্মেলনে আমার নামে ২০ হাজার টাকা চাওয়ার বিষয়টি বললে। আমি তোমাকে দেখে নিব বলে সে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে আমি এ বিষয়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শনিবার রাতে আশরাফুল ইসলাম জুয়েলের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি। প্রশাসনের কাছে আমি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।

অভিযোগের বিষয়ে আশরাফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়। মন্তর মিয়া উল্টো তার ভাইয়ের জমি দখল করে রেখেছেন। বিষয়টি সমাধানের স্বার্থে তাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ হাজার টাকা দেয়া হবে সেটা বলেছি।

কুলাউড়া থানার ওসি মো. গোলাম আপছার বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। #

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *