জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: শ্রীমঙ্গল উপজেলার দক্ষিণ বৌলাশী মিজাপুর ইউনিয়ন এলাকায় ২৭ জুন শনিবার দুপুরে সঞ্জয় চক্রবর্তীর বাসার বাউন্ডারি জালে একটি বিষাক্ত সাপ আটকে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে বাড়ির স্বত্বাধিকারী সঞ্জয় চক্রবর্তী বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন। খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশ কর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটি শনাক্ত করেন। সাপটি ছিল একটি শঙ্খিনী সাপ, যা বাংলাদেশের বিষাক্ত সাপ হিসেবে পরিচিত। এদের বিষ নিউরোটক্সিক প্রকৃতির, অর্থাৎ এটি স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে এবং শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ করে মৃত্যু ঘটাতে পারে।সাপটির শারীরিক অবস্থা ও জালে আটকে থাকার ধরন দেখে ধারণা করা যায়, এটি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জালে আটকে ছিল। দীর্ঘ সময় আটকে থাকার কারণে সাপটি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে গেছে। প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় বাউন্ডারি জালের একটি অংশ কেটে সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার শেষে সাপটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ের রেঞ্জ কমকর্তার নিকট হস্তান্তর করা হয়। উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৯ জুন শুক্রবার সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট ইউনিয়ন কমপ্লেক্সের ভেতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করার সময় শ্রমিকরা একটি শঙ্খিনী (Banded Krait) প্রজাতির অত্যন্ত বিষধর সাপ দেখতে পায়। খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সঞ্জিত দেব ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়াও ২১ জুন রোববার উপজেলার বরুণা হাজীপুর গ্রামের আউয়াল মিয়া নামের এক ব্যক্তি পুকুরে মাছ ধরতে জাল ফেলেন। জাল তোলার পর জালে উঠে আসে একটি অজগর সাপ। খবর পেয়ে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ গিয়ে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। একই দিনে কাকিয়াবাজার তপু দেবনাথ নামের এক ব্যক্তির বাড়ির পাশে ফসলি জমিতে জমে থাকা পানি থেকে মাছ ধরার সময় একটি অজগর সাপ দেখতে পান তপু দেবনাথ। পরে তিনি সাপটিকে উদ্ধারের জন্য শ্রীমঙ্গলস্থ বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে খবর দিলে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সঞ্জিত দেব ও পরিবেশ কর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটিকে উদ্ধার করেন।

