কুলাউড়ায় লকডাউন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন, জরিমানা

কুলাউড়া প্রতিনিধি : করোনা মহামারির সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ঘোষিত সারাদেশের ন্যায় কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে কুলাউড়ায়। তবে কিছু অতি উৎসাহী মানুষ কারণ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেলে আড়ালে চলে যেতেও দেখা গেছে। দৃশ্যটি দেখতে অনেকটা ‘চোর-পুলিশ’ খেলার মতো।
১ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে কুলাউড়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় অতি উৎসাহী মানুষ পায়ে হেটে চলাচল করছেন। সবার কাছে মাস্ক থাকলেও অনেকের মুখে মাস্ক লাগানো দেখা যায় নি। সিগারেট বা পান-সুপারী কিনতে দল বেধে অথবা একা মুদির দোকানে যেতে অনেককে দেখা যায়।
তবে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে সিভিল প্রশাসনের নেতৃত্বে যৌথভাবে মাঠে নেমে টহল দেয় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি। বেলা ১২টার দিকে জেলার কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের চৌধুরী বাজার, আমঝুপ ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম ফরহাদ চৌধুরী। অভিযানে সাথে ছিলেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাজরাতুন নাঈম, কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ বিনয় ভূষন রায়। সিলেট সেনানিবাসের ১৮ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারী ক্যাপ্টেন সাজ্জাদ হাবীবের নেতৃত্বে সেনবাহিনীর একটি দল উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে টহল পরিচালনা করে।
এসময় ৫টি পৃথক মামলায় ১ হাজার ৯শত টাকা জরিমানা করে তা আদায় করে ভ্রাম্যমান আদালত। এছাড়াও বেলা সাড়ে ৩টায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজরাতুন নাঈম। কুলাউড়া পৌর শহরের থানা সম্মুখে অভিযান পরিচালনা করে তিনি ৪টি মামলায় ১ হাজার টাকা জরিমানা করে তা আদায় করেন। এসময় সেনাবাহিনীর টিম অভিযানে সহযোগিতা করেন। এদিকে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন নিশ্চিতকল্পে বৃহস্পতিবার রাতে কুলাউড়া শহরে ইউএনও এটিএম ফরহাদ চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজরাতুন নাঈম, ওসি বিনয় ভূষণ রায় কর্তৃক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ১৩টি মামলায় ১১ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, লকডাউন বাস্তবায়নে কুলাউড়া শহরের কয়েকটি পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। শহরে প্রবেশ করতে গেলেই পড়তে হচ্ছে পুলিশি জিজ্ঞাসার মুখে। অতি প্রয়োজন ছাড়া কাউকেই ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না শহরে। তবে প্রশাসনের তৎপরতার মধ্যেও অনেক উৎসাহী ব্যক্তিদের সড়কে দেখা যায় বিনা কারণে। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পাওয়া মাত্র সেখান থেকে সঁটকে পরে। বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি রিকশা ছাড়া বড় কোন ধরনের যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। বিশেষ করে যে কুলাউড়া শহরে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটতো এবং বিভিন্ন যানবাহনের কারণে তীব্র যানজট লেগেই থাকতো লকডাউনের কারণে সেই দৃশ্য আজ চোখে পড়েনি। বলা যায়, প্রশাসনের তৎপরতায় লকডাউন বাস্তবায়ন জনমনে প্রভাব বিস্তার করেছে। দিনের পুরোটাই সময় পুরো শহর ফাঁকা ছিল।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর। লকডাউন বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের সাথে মাঠে কাজ করছে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ বাহিনী। সকল বাহিনীর সহযোগিতায় আমরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করছি এবং জনগণকে সরকারের নির্দেশনা মানতে উদ্বুদ্ধ করছি। কেউ আইন না মানলে আমরা তাকে জরিমানার আওতায় আনছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *