হাকালুকিতে অবাধে পোনা মাছ নিধন, নিষিদ্ধ জাল ও পোনা মাছ জব্দ

কুলাউড়া প্রতিনিধি : সিলেট বিভাগের পাঁচটি উপজেলা নিয়ে বেষ্টিত এশিয়ার বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি নামে খ্যাত হাকালুকি হাওরে অবাধে পোনা মাছ নিধন শুরু হয়েছে। হাকালুকি হাওরের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলা অংশে প্রতিবছরই বর্ষার শুরুতে এবং পানি কমার সময়ে একশ্রেণির অসাধু চক্রের মাধ্যমে অবাধে পোনা মাছ নিধন ও বিক্রির মহোৎসব চলে। বিশেষ করে মে-জুলাই মাসে মাছের প্রজনন মৌসুমে এই প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। একটি সংঘবদ্ধ চক্র পোনা মাছ নিধন করে তা বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করছে। যদিও মৎস্য অফিস সকল প্রকার মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
দেশীয় মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও পোনা মাছ নিধন রোধে হাকালুকি হাওরের জুড়ী উপজেলা অংশে আবারও পরিচালিত হয়েছে মোবাইল কোর্টের অভিযান। মঙ্গলবার (১২ মে) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাকালুকি হাওরের পোতাওয়ালি বিলে এ অভিযান পরিচালনা করেন জুড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবরিনা আক্তার। অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জুড়ী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান। এসময় এসআই ফরহাদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। অভিযানে প্রায় ২০ কেজি বিভিন্ন জাতের পোনা মাছ, দুটি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল এবং একটি ফিক্সড ইঞ্জিন (স্থানীয় নাম: ঘুরজাল) জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মাছ ও জালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযান শেষে জব্দকৃত পোনা মাছ স্থানীয় এতিমখানা, মাদ্রাসা ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। এছাড়া পরিবেশ ও মৎস্য সম্পদের জন্য ক্ষতিকর অবৈধ জাল উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, হাকালুকি হাওর আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য ভান্ডার। অবৈধ জাল ব্যবহার করে পোনা মাছ নিধন করলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জীববৈচিত্র্য ও দেশীয় মাছের প্রজনন রক্ষায় অবৈধ জাল ও পোনা মাছ নিধনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান নিয়মিত চলমান রয়েছে। জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, জুড়ী উপজেলা মৎস্য বিভাগের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে হাকালুকি হাওরে অবৈধ মাছ শিকার অনেকাংশে কমে এসেছে এবং দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। হাওরের মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা, বিশেষ করে মা-মাছ এবং পোনামাছ রক্ষায় এ ধরণের অভিযান সব সময় পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি। #

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *