জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: কুলাউড়াকে সিলেট বিভাগের অন্যতম মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত ও কুলাউড়ার সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেট বিভাগের রাজনীতিতে কুলাউড়ার একটি স্বতন্ত্র অবস্থান ও ঐতিহ্য রয়েছে। সিলেট বিভাগের মধ্যে রাজনৈতিক চর্চা ও সচেতনতার ক্ষেত্রে কুলাউড়ার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। এখানে বাম রাজনীতির পাশাপাশি বিএনপিও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কুলাউড়ার সংগঠনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন, যার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন তারেক রহমান। এজন্য তিনি গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির শওকতুল ইসলামের হাতে ধানের শীষের মনোনয়ন দিলে কুলাউড়ার জনগণ উন্নয়নের জন্য তাকে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছেন। তাই তারেক রহমান সরাসরি কুলাউড়ার অভিভাবক। অতীতে কুলাউড়া বিভিন্নভাবে উন্নয়ন বঞ্চিত হলেও এখন আর উন্নয়ন বঞ্চিত হবেনা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে এই উপজেলা উন্নয়নের রোল মডেল হতে পারে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে কুলাউড়াকে অনুসরণ করবে দেশের অন্য উপজেলাগুলো। ঈদের পরদিন শুক্রবার বিকেলে কুলাউড়ায় ঈদের কুশল মিনিময়কালে এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এসব কথা বলেন। কুলাউড়ায় ব্যক্তিগত সফরকালে আলহাজ্ব শওকতুল ইসলাম শকু এমপির বাসভবনে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এসময় আলহাজ্ব শওকতুল ইসলাম শকু এমপি কুলাউড়ার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা দূর করতে মন্ত্রীর আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন। মন্ত্রী বলেন, কুলাউড়ার সঙ্গে আমার অনেক সম্পর্ক রয়েছে। এই কুলাউড়ায় আমার বাবার নানা বাড়ি। সেই সূত্রে কুলাউড়ার প্রতি আমার আবেগ ও টান দীর্ঘদিনের। তাই কুলাউড়ার উন্নয়নে সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলামকে সার্বিক সহযোগিতা করে যাবো।
তিনি আরো বলেন, সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে শিগগিরই ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এই কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাভোগী প্রবাসীরা সরাসরি বিভিন্ন সেবা ও আর্থিক সহায়তা পাবেন বলে জানান তিনি। সভায় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে। সরকারের সেবামূলক কাজের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই প্রবাসীদের কল্যাণে বিশেষ এই কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববাজারে দক্ষ জনশক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা উল্লেখ করে তিনি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ, স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স চালু এবং বিদেশি ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া কুলাউড়ার উন্নয়নে সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর সহযোগিতা চাইলে মন্ত্রী কুলাউড়ার চার লেন সড়ক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে আলোচনা করে এবছরের মধ্যেই এসব কাজ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
মতবিনিময় সভায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, সাবেক আহবায়ক রেদওয়ান খাঁন, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল,সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল জলিল জামাল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরী, বহির্বিশ্ব জাতীয়তাবাদী ফোরাম কুলাউড়ার সভাপতি প্রফেসর ড. সাইফুল আলম চৌধুরী, বিএনপি নেতা আজিজুর রহমান মনির, বদরুল হোসেন খান, আব্দুল মন্নান, আব্দুল মুক্তাদির মনু, সুফিয়ান আহমদ, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক কাওসার আহমদ নিপার, যুগ্ম আহবাযক আব্দুল মুহিত বাবলু, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম রাজুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

