কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ফের বাংলাদেশী যুবক নিহত

মাহফুজ শাকিল: কুলাউড়ায় সীমান্তের ওপারে ভারতের মাগুরুলি এলাকায় বিএসএফের গুলিতে তারা মিয়া (১৯) নামে এক বাংলাদেশি তরুণ নিহত হয়েছেন। নিহত তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার মুরইছড়া বস্তি এলাকার আব্দুল মালিকের ছেলে। বর্তমানে তার মরদেহ ভারতের উনকোটি জেলার ইরানি থানার মাগুরুলি এলাকায় রয়েছে।

৯ আগস্ট রোববার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ৪৬ বিজিবির শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ।

বিজিবির এই কর্মকর্তা জানান, রোববার দিবাগত রাত ৩টার পর কুলাউড়া সীমান্তের ওপারে ভারতের মাগুরুলি এলাকায় নিহত তারা মিয়াসহ একদল চোরাকারবারি প্রবেশ করে। এসময় বিএসএফ গুলি চালালে তারা মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

তিনি আরও জানান, নিহত তারা মিয়ার বিরুদ্ধে চোরাকারবারের একটি মামলাও রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে বিজিবি।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা কানু মিয়ার ছেলে রেনু মিয়া (৩৬), রইস আলীর ছেলে সুমন মিয়া (১৮) ও রইস আলীর সাথে ভারতীয় অংশে সিগারেট, নাসির বিড়িসহ চোরাইপণ্য আনতে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল নিহত তারা মিয়া। এ সময় বিএসএফের টহল দল তাদের গতিরোধ করার চেষ্টা করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তারা মিয়া নিহত হন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বাকি সহযোগীরা পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আত্মগোপনে চলে যান।

এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া ও বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠকের আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১২ জুন শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএসএফের গুলিতে মুজিবুর রহমান (৩০) নামে আরেক বাংলাদেশি যুবক নিহত হন। নিহত মুজিবুর সীমান্তবর্তী শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম এলাকার মৃত অজিবুর রহমানের ছেলে।

পরদিন ১৩ জুন শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পুলিশ কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে মুজিবুরের মরদেহ হস্তান্তর করে।

এর আগে ২০২৫ সালের ৩১ মে শনিবার রাতে কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্তে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ৫৭ নাম্বার পিলারের কাছে বিএসএফের গুলিতে প্রদীপ বৈদ্য নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়। নিহত প্রদীপ বৈদ্য উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের শৈলেন্দ্র বৈদ্যের ছেলে।

এছাড়া ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া সীমান্তের দশটেকি এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে সুকিরাম (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়। নিহত সুকিরাম ওই এলাকার মুরইছড়া বস্তির দাসনু উরাংয়ের ছেলে।

এ ছাড়াও ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের লালারচক সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এর গুলিতে স্বর্ণা দাস (১৬) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়।

নিহত স্বর্ণা জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের কালনীগড় গ্রামের বাসিন্দা পরেন্দ্র দাসের মেয়ে। স্বর্ণা স্থানীয় নিরোধ বিহারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী যুবকের মৃত্যু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *