কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ৫০০ টাকা মজুরিসহ বিভিন্ন দাবী-দাওয়া নিয়ে কর্মবিরতি ও গণবিক্ষোভ করেছে দিলদারপুর চা-বাগানের শ্রমিকরা। শনিবার (৮ জুলাই) সকালে প্রায় ২ ঘন্টা কাজে যোগদান না করে শ্রমিকরা এই কর্মসূচী পালন করেন। এতে নারী-পুরুষসহ বিপুলসংখ্যক চা শ্রমিক ও ছাত্র যুবক অংশ নেন। তারা বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে স্লোগান দেন।
বাগান পঞ্চায়েত এডহক কমিটির সভাপতি সিতারাম কলের সভাপতিত্বে এবং বিকাশ পালের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সংস্কার কমিটির সদস্য সচিব জনক লাল দেশোয়ারা জনি, যুগ্ম আহ্বায়ক আকাশ দোষাদ, চা শ্রমিক নারী ফোরামের নেত্রী গীতা রাণী কানু, বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সাবেক সভাপতি বিকাশ চাষা, ক্লিবডন চা বাগানের শ্রমিক নেতা অজিত গোয়ালা, দিলদারপুর চা-বাগানের নারী শ্রমিক পঞ্চমী ভূমিজ, পূরবী রায়, পপি রিখিয়াপন প্রমুখ। এসময় বক্তারা বলেন, দেশের চা শিল্প ও জাতীয় অর্থনীতিতে চা শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে বর্তমান মজুরিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনধারণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। জাতীয় সংসদে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনায় এলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। এবং তারা দ্রুত এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যক্রম ও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় শ্রম অধিদপ্তরের অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে। তারা হস্তক্ষেপমুক্ত পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ইউনিয়ন নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান, যাতে শ্রমিকরা স্বাধীনভাবে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রম করেও তারা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত। তাদের এক দফা দাবি- দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি বাস্তবায়ন। একই সঙ্গে সাংগঠনিক অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। গণবিক্ষোভে ‘ দুনিয়ার মজদুর এক হও, এক হও’ এবং ‘বাংলাদেশের চা শ্রমিক ঐক্যবদ্ধ হও’সহ বিভিন্ন স্লোগানে বাগান এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। সমাবেশ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর এবং চা শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

