প্রতিবন্ধীদের আবেদন ফরমে স্বাক্ষর না দিয়ে ডাষ্টবিনে ফেলে দিলেন বেতাগীর আরএমও

বরগুনার বেতাগীতে প্রতিবন্ধী সনাক্তকরণ আবেদন ফরমে স্বাক্ষর না দিয়ে ৪৫টি ফরম ধুমড়ে মুছড়ে ডাষ্টবিনে ফেলে দিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু বক্কর সিদ্দিক। এ সময়ে তিনি উপস্থিত প্রতিবন্ধীদের অকথ্য ভাষায় গালি গালাস করেন। পরে প্রতিবন্ধীরা ডাষ্টবিন থেকে কুড়িয়ে আনা ফরমসহ উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউএনও’র সাথে দেখা করেন এবং এ ঘটনার বিচার দাবী করেন। মঙ্গলবার (২৩ আগষ্ট) সকাল ১১টায় উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে অফিসিয়ালভাবে লোক মারফত প্রতিবন্ধী সনাক্তকরণ আবেদন ফরমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও’র স্বাক্ষর আনার জন্য ফরম গুলো তার আরএমও’র দপ্তরে পাঠানো হয়। এ সমেয় নিয়ম অনুয়ায়ী প্রতিবন্ধীরাও আরএমও’র সামনে উপস্থিত হয়। আরএমও ডা. আবু বক্কর সিদ্দিক উক্ত ফরম এবং প্রতিবন্ধীদের দেখে রাগন্বিত হয়ে যায় এবং প্রতিবন্ধীদের সাথে অকথ্য ভাষায় গালি গালাস করেন। এক পর্যায়ে স্বাক্ষর না করে ফরমগুলে ধুমড়ে মুছড়ে প্রতিবন্ধীদের সামনেই তার টেবিলের পাশে রাখা ডাষ্টবিনে ছুড়ে ফেলে দেয়। পরে প্রতিবন্ধীরা ডাষ্টবিন থেকে ফরমগুলো কুড়িয়ে এনে উপজেলা চেয়ারমান মো. মাকসুদুর রহমান ফোরকান এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সুহৃদ সালেহীন’র সাথে দেখা করেন এবং এ ঘটনার বিচার দাবী করেন। তাৎক্ষনিকভাবে উভয়ই বরগুনা সিভিল সার্জনকে বিষয়টি অবহিত করেন। এ বিষযে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। নীতিমালা অনুযায়ী যারা প্রতিবন্ধী তাদের ফরমে স্বাক্ষর করেছি। আর প্রতিবন্ধী নয় তাদের ফরম রেখে দিয়েছি। আমি কারো সাথে খারাব আচরণ কনিরি। স্বাক্ষর নিতে আসার বুড়ামজুমদার ইউনিয়নের ফজিলা বেগম বলেন, আমরা ডাক্তারের রুমে ঢুকলেই তিনি আমাদের খারাব ভাষায় গালি গালাস করেন। আমাদের ফরমে স্বাক্ষর না দিয়ে ফরমগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, যদি কোন কোন ব্যাক্তি প্রতিবন্ধী না হয় তাহলে ফরমে তা উল্লেখ করে স্বাক্ষর দিতে পারতেন। তাহলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। আমার দপ্তরের সরকারি ফরম ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া সমিচিন হয়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সুহৃদ সালেহীন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। আমি ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছে। উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মাকসুদুর রহমান ফোরকান বলেন, প্রতিবন্ধীদেও সাথে এ ধরনের আচরণ করা মোটেও উচিত হয়নি। সরকারী ফলম ডাস্টবিনে ফেলা দিয়ে তিনি অন্যায় করেছেন। একজন ডাক্তার হিসাবে তার আচরণ আরও নমনীয় হলে ভাল হতো। বরগুনা সিভিল সার্জন মো. ফজলুর রহমান বলেন, আমি ঘটনাটি জেনেছি। এ ধরণের ঘটনা ঘটে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *