মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর সুষ্ট ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের নিকট ন্যাস্ত করার দাবীতে সিলেট -২ আসনের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান বরাবরে একটি আবেদন পত্র প্রদান করেছেন বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি সংসদ সিলেটের নেতৃবৃন্দ। ৩০ ডিসেম্বর শুক্রবার সিলেট – ২ আসনের সংসদ সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, মোকাব্বির খান বরাবরে সংসদের পক্ষ থেকে এ আবেদন জানানো হয়। সংসদ সদস্য ধৈর্য্য সহকারে বিষয়টি শুনেন এবং গ্রন্থাগার ও জাদুঘর স্থাপনার এ বেহাল অবস্থার জন্য বিষ্ময় প্রকাশ করেন। তিনি দ্রুত এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি মেরামত ও পরিচালনার জন্য আর্থিক বরাদ্ধ প্রদানের আশ্বাস দেন। আবেদন প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সংসদের সভাপতি সৈয়ীদ আহমদ বহলুল, সহ সভাপতি এড আব্দুল মালিক, সাধারণ সম্পাদক এড মোহাম্মদ জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক তামিম ইকবাল প্রমুখ। আবেদন সুত্রে জানা যায়, মহান মুক্তিযুদ্ধের সি ইন সি, বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর স্মৃতি রক্ষার্থে, তাঁর পিতৃভূমি সিলেট জেলার ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীরস্থ সিলেট – ঢাকা মহাসড়কের পশ্চিমপার্শে, গগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে, সিলেট জেলা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় ৮২ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মিত হয় “মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। আধুনিক এ স্থাপনাটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মঈন উদ্দিন আহমদ এন ডিসি, পিএসসি ২০০৮ সালের ২২ শে ডিসেম্বর। উদ্ভোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লীউন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ২০১২ সালের ২৮ নভেম্বর। উদ্ভোধনের ১০ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও অদ্যাবধি গ্রন্থাগার ও যাদুঘরটির পরিচালনার দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ না থাকায় স্থাপনাটি অস্থিত্বের সংকটে পড়েছে এবং অযত্ন, অবহেলা আর যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে স্থাপনা সহ আসবাবপত্র বিনষ্ট হতে চলেছে।পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকার ফলে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যাক্তি স্থাপনার সামনের আঙিনা অবৈধ ভাবে ব্যাবহার করে মনোরম পরিবেশ বিনষ্ট করছে। এলাকার বখাটেদের আড্ডা ও অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হয়ে পড়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সি ইন সি বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর স্মৃতিধন্য এ স্হাপনা। এমতাবস্থায় বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি সংসদ সিলেটের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর পরিচালনার জন্য দাবী জানিয়ে আসছে তারই ধারাবাহিকতায় মহান বিজয়ের মাস ও বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী কে সামনে রেখে,” মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর পরিচালনার নিমিত্তে জরুরী ভিত্তিতে স্থাপনাটি অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধার করত নষ্ট হয়ে যাওয়া স্থাপনা ও আসবাবপত্র মেরামত সহ পরিচালনার দায়িত্ব ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের নিকট ন্যাস্ত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী জানান। উল্লেখ্য, গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের দাবীতে সংসদের পক্ষ থেকে গত ২০ ডিসেম্বর ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান শামীম আহমদের নিকট আবেদন জানানো হয়। এরইপ্রেক্ষিতে ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আহমদ তাৎক্ষনিকভাবে স্থপনাটি পরিদর্শন করেন এবং বেহাল দশা নিজ চক্ষে দেখে মর্মাহত হন। এ সময় তিনি উপজেলা পরিষদের দায়িত্বে নিয়ে যেতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।

