সিলেটের জেলা প্রশাসক মোঃ মজিবর রহমান বলেছেন, সিলেট জেলার অনাবাদি পতিত জমি চাষের আওতায় আনার জন্য জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগ একত্রে কাজ করে যাচ্ছে। জেলার কৃষকেরা উন্নত আধুনিক উচ্চ ফলনশীল জাতগুলো আবাদ করলে কৃষি উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যাবে। তাই উচ্চ ফলনশীল জাত আবাদের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। বর্তমান সরকার ধানের ন্যায্য মূল্য দিয়ে কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করছে এতে কৃষকরা ধান উৎপাদনে আরো বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।
তিনি আরোও বলেন- সেচ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্য কাজ কারা হচ্ছে। এ বোরো মৌসুমে ৪৫০ হেক্টর জমিতে ধানের আবদি বেশি হয়েছে। গত আমন মৌসুমে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান বেশি হয়েছে এবং সরিষা মৌসুমে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে বেশি সরিষার আবাদ করা হয়েছে। প্রতি বছরে প্রত্যাক উপজেলা ১ হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি পতিত জমি নতুন করে চাষের আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যা আগামী ৫ বছরে ৬৫ হাজার হেক্টর জমি চাষের আওতায় আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি শনিবার (১৫ এপ্রিল) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সদর, সিলেট এর আয়োজনে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পে আওতায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরে স্থাপিত সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নের ঝিলকার হাওরে বোরোধান (ব্রিধান ৯২) প্রদর্শনীর উপর এক মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেট এর উপ পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ খয়ের উদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মুক্তা সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন-সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত আজমেরী হক, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মনিটরিং অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান ,ডিএই, সিলেটের অতিরিক্ত উপপরিচালক, কৃষিবিদ মোহাম্মদ আনিছুজ্জহামান , মোগলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হিরন মিয়া।
প্রদর্শনীভূক্ত কৃষক বলেন, দিন দিন ব্রি-ধান-৯২ চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে। উন্নতজাতের ধান চাষ করে তারা অনেক লাভবান। এই ধানে তেমন কোন রোগ-বালাই নেই। তিনি স্থানীয় কৃষকদের বলেন, এ উন্নত জাতের বীজ সংগ্রহ করে আগামী বছর নিজ জমিতে আবাদ করলে আপনারা লাভবান হবেন। শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অপূর্ব লাল সরকার বলেন-কৃষকদের উদ্ধুদ্ধ করে নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং সার ও কীটনাশক এবং আন্ত:পরিচর্যার জন্যও সহায়তা প্রদান করেছে। তিনি স্বল্পজীবনকাল ধান ও পানি সাশ্রয়ী বোরো মৌসুমে ব্রি ধান-৯২এর জাত পরিচিতি ,উৎপাদন, ফলন ও সংরক্ষণ বিষয়ে কৃষকদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেন ।
এ সময় সংশ্লিষ্ঠ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীরা উপস্থি ছিলেন।

