কমলগঞ্জে গোকুলানন্দ গীতিস্বামী ১২৯ তম জন্মবার্ষিকীতে আলোচনা সভা

জেলা প্রতিনিধিমৌলভীবাজার:

বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সমাজ জাগরণের অগ্রদূত চারণকবি গোকুলানন্দ গীতিস্বামী’র ১২৯ তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন- সামাজিক প্রেক্ষাপটের কারণে গুণীজনেরা বিভিন্ন সময় সমালোচিত হলেও পরবর্তীতে সত্যিই তাঁদের মূল্যায়ন হয়ে থাকে। গোকুলানন্দ গীতিস্বামী এমনই একজন গুণী ব্যক্তি। যিনি সকল সমালোচনার উর্ধ্বে থেকে অন্ধারাচ্ছন্ন সমাজকে আলোর পথ দেখিয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর মণিপুরী ললিতকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। গোকুলানন্দ গীতিস্বামীর ১২৯ তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার মাধবপুর মণিপুরী নাট্যশিল্পী গোষ্ঠির আয়োজনে এবং মণিপুরি ললিতকলা একাডেমির সহযোগিতায় দিন ব্যাপী বর্ণাঢ্য র‌্যালী, আলোচনা সভা, গুণীজন সংবর্ধনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করা হয়।
মণিপুরি ললিতকলা একাডেমির উপ-পরিচালক প্রভাস চন্দ্র সিংহের সভাপতিত্বে ও সঙ্গীত প্রশিক্ষক সুতপা সিনহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজারের নবাগত জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল। বিশেষ অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাখন চন্দ্র সূত্রধর, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি আসহাবুজ্জামান শাওন, মণিপুরি সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি প্রতাপ চন্দ্র সিংহ ও মণিপুরি নাট্য শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি চন্দ্রেশ্বর সিংহ সপু। অনুষ্ঠানের শুরুতে মণিপুরি সংস্কৃতি বিকাশে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখায় মণিপুরি সমাজের বিশিষ্ট সংকীর্তন গায়ক হরিনারায়ণ সিংহ এবং মণিপুরি সমাজের বিশিষ্ট মৃদঙ্গবাদক কনুং সিংহকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে মণিপুরী শিল্পীদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের বক্তারা আরো বলেন, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সাহিত্যের অন্যতম পথিকৃৎ, সমাজ সংস্কারক ও জাগরণের অগ্রদূতত ছিলেন চারণকবি গীতিস্বামী গোকুলানন্দ সিংহ। গীতিশ্বামী কেবল একজন কবি ছিলেন না; তিনি ছিলেন তাঁর সমাজের বিবেক ও কন্ঠস্বর।” পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে একাডেমির শিল্পীরা গান,রাস নৃত্য পরিবেশন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *