বিশ হাজার মানুষকে ভোজন করিয়ে এমপি পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন চেয়ারম্যান ম্যান্ডেলা

জেলা প্রতিনিধিমৌলভীবাজার:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন পৃথিমপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম জিমিউর রহমান চৌধুরী ওরফে ম্যান্ডেলা। ২৯ নভেম্বর শনিবার সকালে উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সুলতানপুরগ্রামস্থ চেয়ারম্যান জিমিউর রহমানের গ্রামের বাড়িতে প্রায় হাজার বিশেক মানুষের উপস্থিতিতে আগামী সংসদ নির্বাচনে এমপি প্রার্থী হিসেবে সম্মতি, জনগণের প্রত্যাশা, এলাকার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে জিমিউর রহমান চৌধুরী ম্যান্ডেলার সমর্থনে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা বিশিষ্ট সমাজসেবক সৈয়দ এখলাছুর রহমানের সভাপতিত্বে ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নের মেম্বার সৈয়দ আব্দুল আহাদের পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় এম জিমিউর রহমান চৌধুরী ম্যান্ডেলা বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন খুবই সন্নিকটে। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্য আপনাদের নিকট থেকে সমর্থন ও মতামত নেওয়ার জন্য এ মতবিনিময় সভার আয়োজন। পৃথিমপাশা ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে সরকারি সম্মানীসহ কোন ধরণের সুযোগ-সুবিধা নেইনি। বরং আমার ব্যক্তিগত উপার্জিত অর্থ দিয়ে মানুষের সুখ-দুঃখের সারথী হিসেবে পাশে থেকেছি। আগামী সংসদ নির্বাচনে আমি নির্বাচিত হলে গাড়ি-বাড়ি কিছুই নিবো না, আল্লাহ পাক আমাকে অনেক কিছু দিয়েছেন। সরকারি যেসকল সুযোগ-সুবিধা পাবো তা জনগণের মধ্য বিলিয়ে দিব। আমি আমৃত্যু জনগণের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই। কুলাউড়াকে একটি আধুনিক, মডেল ও সন্ত্রাসমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলব। সেই সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীসহ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নের আমার জীবন বিসর্জন দিয়ে কাজ করে যেতে প্রস্তুত আছি। তিনি আরো বলেন, আমি গর্ব করে বলতে পারি, বর্তমান সময়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বৃন্দ পরিষদে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। সে অবস্থায় আমি আজ অবধি জনগণের দোয়া ও ভালোবাসায়, আল্লাহ পাকের কৃপায় কোন ঝামেলা ছাড়াই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। বিগত প্রায় চার বৎসর আপনাদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে আমার আচার-আচরণে যে বিষয়টি আপনারা লক্ষ্য করেছেন। আমার আত্মীয়তা ছিল সর্বদলীয় মানুষ, নিরীহ ও খেটে খাওয়া অসহায় মানুষের সাথে। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের পর থেকে আপনারা ১২ বার এমপি নির্বাচিত করেছেন। কাউকে ১ বার, কাউকে ২ বার, কাউকে ৩ বারও নির্বাচিত করেছিলেন। আবার এমনও হয়েছে এক ভোটে দুই এমপি ছিলেন। একজন ছিলেন কুলাউড়ায়, অন্যজন ছিলেন ঢাকায়। তখন মনে হয়েছিল পুরো কুলাউড়া উন্নয়নের জোয়ারে ভাসবে। কিন্তু বাস্তবে আমরা কি দেখলাম, বড়লেখা, কমলগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের তুলনায় কুলাউড়া অনেক উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে ছিল। আমি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেখলাম আমাদের কুলাউড়ায় আসলে যোগ্য নেতৃত্বের অভাবেই অবহেলিত রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, আমি মহান আল্লাহ পাককে স্বাক্ষী রেখে দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি, চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কোন ব্যক্তি বা গুষ্টিকে কোন ভাবেই নির্যাতন বা প্রতারণা করিনি। বিশেষ করে সরকারি কোন তহবিল আমার দ্বারা তসরুফ হয়নি। আমার ব্যক্তিগত উপার্জনের অর্থ দিয়েই আমি ইউনিয়নের জনগণের পাশে থেকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। তারপরও আমি তাতে খুব সন্তুষ্ট হতে পারি নাই। সর্বস্তরের জনগণের দোয়া, ভালোবাসা ও সার্বিক সহযোগিতা পেলে আরো উন্নত সেবা ও সহযোগিতায় যথাসাধ্য চেষ্টা করার চেষ্টা করবো। আমি কখনো রাজনীতি করি নাই, আমি চাকুরী ও ব্যবসায় নিয়োজিত ছিলাম এবং আছি। আমি চাই জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত আপনাদের পাশে থাকবো। যদি আমাকে আপনারা এমপি  পদে নির্বাচিত করেন তাহলে আমি কথা দিলাম, আমার ব্যক্তিগত আয় ও সরকারি সম্মানী জনগণের মাঝে বিলিয়ে দিব। দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে আমাকে আপনারা নির্বাচিত করবেন বলে একমত পোষণ করে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করছি। মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য দেন ইসলামী ঐক্যজোট সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাওলানা আছলাম হোসেন রহমানী, সমাজসেবক এ এফ আলম চৌধুরী, ইউপি সদস্য মনির আহমদ, ব্যবসায়ী ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কামাল আহমদ চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক সৈয়দ মোহাম্মদ আলী, সমাজকর্মী কবির আহমদ চৌধুরী সুমন, সাবেক বিডিআর সদস্য তৈমুছ আলী, সমাজসেবক মখলিছুর রহমান, কয়ছর আহমদ, জমির আলী, আমির আলী, মামুনুর রশীদ, চা-শ্রমিক প্রতিনিধি গোপাল বাবু প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এম শাকিল রশীদ চৌধুরী, চা-বাগানের কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান, সমাজসেবক আতাউর রহমান, বিভিন্ন চা-বাগানের পঞ্চায়েতকমিটির লোকজনসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার প্রায় ২০ হাজার লোকজন। সভা শেষে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন কয়েক হাজার লোকজন।  উল্লেখ্য, কুলাউড়ার পৃথিমপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম জিমিউর রহমান চৌধুরী ওরফে ম্যান্ডেলা সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে। তিনি চট্টগ্রামের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। সমাজসেবায় একজন দানবীর হিসেবে কুলাউড়ায় তাঁর ব্যাপক খ্যাতি রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *