জালিয়াতির মাধ্যমে পেট্রোল পাম্পের লাইসেন্স বিক্রির অভিযোগ সেক্রেটারি আব্দুল হকের বিরুদ্ধে

জুড়ী প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের সমাই বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে পেট্রোল পাম্পের প্যাক পয়েন্টের লাইসেন্স বিক্রি এবং পরবর্তীতে দোকানের মালামাল ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারী ফখরুল ইসলাম জানান, আদালতে করা একটি এফিডেভিটের মাধ্যমে পেট্রোল পাম্পের লাইসেন্সটি নিজের নামে রয়েছে—এমন তথ্য উল্লেখ করে মো. আব্দুল হক তার কাছে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ‘ইউনিক ট্রেডার্স প্যাক পয়েন্ট’ বিক্রি করেন। তবে পরবর্তীতে লাইসেন্স নবায়নের সময় তিনি জানতে পারেন, লাইসেন্সটি মো. আব্দুল হকের নামে নয়; বরং ‘মনোহর আলী ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী মনোহর আলীর নামে নিবন্ধিত।
ফখরুল ইসলামের অভিযোগ, প্রকৃত মালিকানা গোপন করে তাকে ভুল তথ্য দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে প্যাক পয়েন্টের লাইসেন্স বিক্রি করা হয়েছে। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, গত ৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় তার প্রতিষ্ঠানে পেট্রোল ও ডিজেল সরবরাহ করা হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ করে তিনি চলে যান। সে সময় দোকানে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ লিটার জ্বালানি তেল মজুদ ছিল। তার দাবি, এত অল্প সময়ের মধ্যে ওই পরিমাণ জ্বালানি বিক্রি হয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।
ফখরুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রাতেই তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দোকানের তালা ভেঙে মজুদকৃত জ্বালানি জব্দ করেন এবং দোকানের চাবি সমাই বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হকের জিম্মায় দেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ফখরুল ইসলাম ৩৬ দিন কারাভোগ করেন। গত ৩ জুন জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর একাধিকবার দোকানের চাবি ফেরত চাইলেও তা পাননি বলে অভিযোগ তার।

পরে আদালতের নির্দেশে গত ১৩ জুলাই দোকানের চাবি বুঝে পান ফখরুল ইসলাম। এরপর দোকান খুলে তিনি দেখতে পান, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দামি মবিল, নগদ ৬২ হাজার টাকা, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, ক্রয়-বিক্রয়ের মেমো এবং পেট্রোল পাম্প পরিচালনার মূল লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় বেশ কিছু নথিপত্র নেই।
ফখরুল ইসলামের দাবি, প্রায় ১২ লাখ টাকা মূল্যের মালামালের মধ্যে মাত্র আড়াই লাখ টাকার মালামাল তিনি দোকানে পেয়েছেন। দীর্ঘদিন দোকানের চাবি মো. আব্দুল হকের জিম্মায় থাকায় ওই সময় এসব মালামাল ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে ফখরুল ইসলামের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. আব্দুল হক। দোকান থেকে মালামাল ও কাগজপত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগকে তিনি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তবে ফখরুল ইসলামের কাছে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে লাইসেন্স বিক্রির বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। বাকি অভিযোগগুলো মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, লাইসেন্স বিক্রির সময় উপস্থিত থাকা সমাই বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির জানান, তার সামনেই ফখরুল ইসলাম ও আব্দুল হকের মধ্যে টাকার লেনদেন হয়েছে। এ সময় দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে আব্দুল মালিকও উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে পদ্মা কোম্পানি সিলেটের সিনিয়র অফিসার মার্কেটিং মো. আবু শাকিল বলেন, “লাইসেন্স কেউ বিক্রি করতে পারবেন না। লাইসেন্স বিক্রি করার কোনো অনুমোদন নেই। এছাড়া এজেন্সি বা প্যাক পয়েন্টের সরাসরি লাইসেন্স বিক্রি করারও নিয়ম নেই।

ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্যাক পয়েন্টের লাইসেন্সের প্রকৃত মালিকানা যাচাই এবং জালিয়াতি ও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী ফখরুল ইসলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *