শারীরিক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে বিসিএসের স্বপ্নে বিভোর প্রিয়ন্তী সিনহা

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, নানা প্রতিকূলতাকে জয় করে ও আর্থিক সংকটকে সঙ্গী করেই উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে চলেছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভার উত্তর মাগুরা এলাকার দুই বোন সুপ্রিয়া সিনহা ও প্রিয়ন্তী সিনহা। শারীরিক প্রতিকূলতার মধ্যেও বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করার স্বপ্ন লালন করছেন ছোট বোন প্রিয়ন্তী সিনহা।

ভূমি অফিসের সাবেক সহকারী সুরেন্দ্র কুমার সিংহ ও সুশীলা রাণী সিনহা দম্পতির দুই মেয়েই শারীরিক প্রতিবন্ধী। পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে বড় বোন সুপ্রিয়া সিনহা অনার্স পরীক্ষা দিয়ে রেজাল্টের অপক্ষোয়। ফলাফল অনূকুলে থাকলে মাস্টার্সে ভর্তি হবেন। ছোট বোন প্রিয়ন্তী সিনহাকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রিয়ন্তী সিনহা মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে অনার্স সম্পন্ন করে বর্তমানে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে তার এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছের আদমপুর ইউনিয়নের উত্তর ভানুবিল গ্রামের বাসিন্দা সুরেন্দ্র কুমার সিংহ ভুমি অফিসে চাকুরীর সুবাধে ২০০২সাল থেকে কুলাউড়া শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। ২০১৯ সালে চাকুরী থেকে অবসর নেয়ার পর দুেই মেয়ের লেখাপড়ার জন্য এখনো কুলাউড়া শহরে বসবাস করছেন। তিনি জানান, তার দুই মেয়েরে বয়সের ব্যবধান তিন বছর হলেও ৭ম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর থেকে তাদের শরীরের শক্তি ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে। আড়াই ফুটের সামান্য উপরে দুই জনের উচ্চতা। কোন ছেলে সন্তান নেই।

চার সদস্যের পরিবারটি বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছে। নানা অভাব-অনটনের মধ্যেও দুই মেয়ের শিক্ষা ও স্বপ্নের খরচ তিনি বহন করে চলেছেন।

ছোট মেয়ে প্রিয়ন্তীর একমাত্র লক্ষ্য বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়া। তার এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সমাজের বিত্তবান, দানশীল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

সুরেন্দ্র কুমার সিংহের বিশ্বাস, মানুষের ভবিষ্যৎ তার সীমাবদ্ধতায় নয়, বরং সম্ভাবনা, অধ্যবসায় ও স্বপ্ন দেখার সাহসে নির্ধারিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *