বর্তমান সরকার সব জায়গায় ব্যর্থ হয়েছে, তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেনি-কুলাউড়ায় ডাকসু ভিপি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বৈষম্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না- শিবির সভাপতি সাদ্দাম

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান সরকার সব জায়গায় ব্যর্থ হয়েছে। তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেনি। ফ্যাসিবাদী হাসিনা ও তার দোসরদের বিচার সঠিকভাবে করতে পারেনি। দেশে নজিরবিহীন লোডশেডিং হচ্ছে। গ্যাস, জ্বালানি, বিদ্যুৎ বিল ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ক্ষেত্রেও তারা সফল হচ্ছে না। জনগণের মৌলিক সঙ্কট নিরসনে সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ডাক দিয়েছেন। সরকার সেই ডাকে সাড়া দিয়ে মৌলিক সঙ্কট নিরসনে এগিয়ে আসবে বলে আমার বিশ্বাস।’ ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১১টায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গত ৫৫ বছরে যারা এমপি, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তাদের সময়ে সমাজে দাঙ্গাবাজি, টেন্ডারবাজি, রাহাজানি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কারণে দেশের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন হয়নি। দেশের নেতারা দেশের ভালো চান এবং দেশপ্রেমের কথা বলেন। কিন্তু নেতৃত্বে যাওয়ার পর তারাই হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছেন। যারা ভালো কাজ করেছেন, যারা এই সমাজকে গড়ার চেষ্টা করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শহীদ মীর কাসেম আলী। সারাটা জীবন তিনি মানবতার কল্যাণে কাজ করেছেন। তিনি ছাত্রশিবিরের দায়িত্ব শেষে ইসলামী ব্যাংক, ইবনে সিনা ট্রাস্টসহ মেডিক্যাল কলেজ, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল নির্মাণ করে হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।’ ‘সর্বশেষ ফ্যাসিবাদি সময়ে হাসিনা মীর কাশেম আলী, আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীসহ জাতীয় নেতাদের ক্যাঙ্গার“ কোর্টের মাধ্যমে জুডিশিয়াল কিলিং এ হত্যা করেছে।’

জুলাই আন্দোলন ও বৈষম্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব হয়েছিলো সব বৈষম্য দূর করার জন্য। কিন্তু বিএনপি সরকার সাত মাসের মধ্যেই আবার বৈষম্য শুরু করেছে। শিক্ষার্থীদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে। মেধাবীদের বঞ্চিত করে স্বজনপ্রীতি ও ঘুষের মাধ্যমে হাসিনার মতো তারাও মামা, খালু, ঘুষ ইত্যাদির মাধ্যমে মেধাবীদের পেটে লাথি মেরে তাদের মানুষকে চাকরি দিচ্ছে। হাসিনার যে পরিণতি হয়েছে, আপনাদের জন্যও সেই পরিণতি অপেক্ষা করছে।

বর্তমানে বিভিন্ন লংমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যে লংমার্চগুলো হচ্ছে, এগুলো কোনো একক রাজনৈতিক দলের নয়, কোনো ব্যক্তির নয়। বরং ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই এই লংমার্চের মাধ্যমে। লং মার্চে আটটি দফার দাবি উঠেছে, সবগুলোই ১৮ কোটি মানুষের জন্য। তিনি বলেন, ‘সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার জেলায় আসলে আমার আবেগ কাজ করে। এখানকার মানুষ যেখানে গেছেন সেখানে মানুষের জন্য কাজ করেছেন। কুলাউড়ার কৃতি সন্তান ডা. শফিকুর রহমান হাসিনার রোষানলে পড়েও দেশ ছেড়ে যাননি। জনতার কাতারে ছিলেন।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমি অনেক স্বপ্ন দেখি। ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে হলে তোমাদের প্রস্তুত হতে হবে। নতুন প্রজন্ম একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে পারবে, ইনশাআল্লাহ। ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সাদিক কায়েম বলেন, আগামী বছরে কী করবে, তা পরিকল্পনা করে করবে। আগামীতে তোমরা কোন পজিশনে থাকতে চাও, সেই অনুযায়ী এখনই পরিকল্পনা করো। ডাকসুর বর্তমান কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারের ডাকসু যে পরিমাণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক কাজ করেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে কেউ করতে পারেনি।

এদিকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বৈষম্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। দলীয় লোকদের চাকরি দিয়ে বিএনপি সরকার নব্য ফ্যাসিবাদী আচরণ শুরু করেছে। এর বিরুদ্ধে ছাত্র জনতা আন্দোলন শুরু করলে দিল্লি, পিন্ডি কিংবা লন্ডনেও পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে না।

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ইন্টারমিডিয়েট শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিশনাল পিরিয়ড। এসএসসিতে যে পরিমাণ শিক্ষার্থী এ প্লাস পায়, এইচএসসিতে সেই পরিমাণ এ প্লাস পায় না। মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার কর্মপরিকল্পনার ওপর। এই সময়টা একজন শিক্ষার্থীর নিজেকে গড়ে তোলার সময়। চাকরিতে নিয়োগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় সবকিছুতে পাস করার পরও ভাইভা পরীক্ষায় ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে শুধু নিজেদের লোককে চাকরি দেওয়া হয়েছে। দেশের সংবিধান সব নাগরিককে চাকরি করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছে। তাহলে কেনো শুধু নিজেদের লোককে চাকরি দেওয়া হবে?

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ে যারা রক্ত দিয়েছে, তাদের রক্তের প্রতিদান এখনো পাওয়া যায়নি। তাদের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি তাদের নিজেদের দলের অযোগ্য লোকদের নিয়োগ দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ জামায়াতের সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহিন আহমদ খান, কুলাউড়া উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল মুন্তাজিম, সেক্রেটারি বেলাল আহমদ চৌধুরী, পৌর আমির মো: জাকির হোসেন, জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম শাহরিয়ার, কলেজের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলামসহ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *