মাহফুজ শাকিল: কুলাউড়ায় দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস মারাত্মক জনবল সংকটে ভুগছে। এদিকে উপজেলার ১৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের ১৬৫টি পদ শূন্য রয়েছে। এরমধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৬৫টি এবং সহকারী শিক্ষকের ১০০টি পদ শূন্য। তাছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেখাশুনার দায়িত্বে কর্মরত রয়েছেন ১ জন উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও ২ জন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার। শিক্ষা অফিসের জনবল সংকটের কারণে দাপ্তরিক সকল কাজকর্ম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। বিশেষ করে প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, কুলাউড়ায় ১৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ১৯৩টি। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন ১২৮ জন। ফলে শূন্য রয়েছে ৬৫টি পদ। অন্যদিকে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ৯৮৯টি। বর্তমানে কর্মরত আছেন ৮৮৯ জন। ফলে সহকারী শিক্ষকেরও ১০০টি পদ শূন্য রয়েছে। প্রায় ৭ বছর ধরে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের অনুমোদিত ৯ পদের মধ্যে ৭টিই শুন্য। দুইজন কর্মরত থাকলেও সর্বশেষ এক বছর তিনজন দায়িত্বে ছিলেন। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের ৪টি পদই শূন্য, ৭ বছর ধরে হিসাব সহকারীর পদ শূন্য, ২০০৩ সাল থেকে অফিস সহায়কের পদও শূন্য রয়েছে।
শিক্ষা অফিসের সাবেক অফিস সহকারী ও বর্তমান উচ্চমান সহকারীর দায়িত্বে থাকা মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, শিক্ষা অফিসে ৭ জন কর্মচারীর স্থলে তিনি একাই কাজ পরিচালনা করছেন। একাই কাজ করতে অনেক বেগ পোহাতে হচ্ছে। কাজের চাপে অনেক সময় বন্ধের দিনেও অফিসে কাজ করতে হয়। বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা জানান, উপজেলার স্কুলগুলো নিয়ে ৬টি ক্লাস্টার ও ৩২টি সাব-ক্লাস্টার গঠিত। প্রতি তিন মাস অন্তর প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে সাব-ক্লাস্টার মিটিং ও প্রতি মাসে মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু উপজেলার ৯টি অনুমোদিত সহকারী শিক্ষা অফিসারের পদ থাকলেও ২০১১ সাল থেকে ৭ পদই শুন্য রয়েছে। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার সংকটে সমন্বয় সভা ও ক্লাস্টার মিটিংয়ের কাঙ্খিত লক্ষ অর্জিত হচ্ছে না। শিক্ষকরা সময়মত স্কুলে যাওয়া-আসা করছেন কি না তাও তদারকি সম্ভব হয় না। সহকারী শিক্ষা অফিসারের অভাবে নিয়মিত স্কুল পরিদর্শন না হওয়ায় শিক্ষকরা নিজেদের ইচ্ছামাফিক স্কুলে যাচ্ছেন। এমনকি সঠিকভাবে শ্রেণী কার্যক্রম চলছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া স্কুলের এক কাজের জন্য বারবার শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। যার প্রভাব পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর। এতে শিক্ষার মান নিম্নমুখী হওয়ার আশংকা রয়েছে বলে মনে করছেন এতদঞ্চলের সচেতন মহল।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা বলেন, শিক্ষক পদ শূন্য থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। শূন্য পদে নিয়োগ ও পদায়ন হলে শিক্ষক সংকট অনেকটাই কমে আসবে। তবে বর্তমানে কর্মরত শিক্ষকদের মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ৯টি পদের মধ্যে ৭টি শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলো নিয়মিত পরিদর্শন ও তদারকিতে বিঘ্ন ঘটছে। পাশাপাশি কম্পিউটার অপারেটর না থাকায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দাপ্তরিক কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শুন্য পদগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারী পদায়ন করা হলে শিক্ষা অফিসের সকল কার্যক্রমের গতি ফিরে আসবে।

