জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: কুলাউড়া পৌর শহরের প্রধান সড়কে দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে প্রশাসন কর্তৃক মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে চার শ্রমিককে আটক করার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে পরিবহন শ্রমিকরা। এসময় শহরের দক্ষিণবাজার থেকে কুলাউড়া থানার সম্মুখ পর্যন্ত প্রধান সড়কের মধ্যখানে এলোমেলো ভাবে ১ ঘন্টা গাড়ি রেখে অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশে শত শত গাড়ি আটকা পড়লে ভোগান্তিতে পড়তে হয় হাজার হাজার মানুষকে। এদিকে বিক্ষুব্দ শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার প্রতিবাদে মিছিল করে তাঁর বিরুদ্ধে আপত্তিকর নানা স্লোগান দেয়। এসময় বিক্ষুব্দ শ্রমিকরা থানার ভেতরে গিয়ে জড়ো হতে থাকলে উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও থানার ওসি পরিস্থিতি সামাল দেন। পরে থানায় আটককৃত তিন শ্রমিককে মুছলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
১৯ আগস্ট বুধবার দুপুরে পৌরশহর এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাস। অভিযানকালে যত্রতত্র সিএনজি পার্কিংয়ের অপরাধে ৭টি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার জিম্মায় দেওয়া হয়। পাশাপাশি পৃথক দুটি মামলায় মোট ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এসময় দ-বিধি, ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় সাইদুর রহমান নামে এক শ্রমিককে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদ- প্রদান করা হয়। অভিযানে কুলাউড়া থানা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে। এদিকে আন্দোলনের খবর পেয়ে
সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করতে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শওকতুল ইসলাম শকুর তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, সাবেক সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরী ও উপজেলা জাসাসের সদস্য সচিব মো. সালমান হোসাইনসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দরা আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করে তাদের দাবির বিষয়টি সম্মানজনক সমাধানের আশ্বাস দিলে পরিবহন শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাস জানান, পৌর শহরের প্রধান সড়কে যত্রতত্র সিএনজি পার্কিংয়ের কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে ও সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। শহরের মূল সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং যানজট নিরসনে অভিযান পরিচালনা করা হবে। আইন অমান্য করে যেখানে-সেখানে যানবাহন পার্কিং করলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে মোবাইল কোর্টের অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শহরে আসা সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা। তাদের মতে, বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথের পাশে যত্রতত্র সিএনজি দাঁড় করিয়ে রাখায় প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয় এবং পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নিয়মিত অভিযান ও নির্দিষ্ট স্থানে সিএনজি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হলে শহরে যানজট অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন তারা। কুলাউড়া পৌরসভা বাজারের যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে যত্রতত্র সিএনজি পার্কিং বন্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। বাজারের সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য সুফিয়ান আহমেদ বলেন, যানজট নিরসনে পরিবহন শ্রমিকদের নিয়ে সভায় সিদ্ধান্ত হয় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয় ১৮ আগষ্ট সোমবার থেকে তা কার্যকর করতে বাধ্য থাকিবে। অন্যথায় সিদ্ধান্ত অমান্য কারীর গাড়ী ডাম্পিং করা হবে। বিধি বাম আজ আইন প্রয়োগ করতে গেলে উল্টো রাস্তা অবরোধ, মিছিল। মনে রাখতে হবে আইন সবার জন্য সমান। সিএনজি শ্রমিক, মালিক মিলে প্রায় দশ হাজার হবে। কিন্তু প্রতিবন্ধকতা বিরোধী অতিষ্ঠ স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ তার অধিকার প্রয়োগে রাস্তায় নেমে পড়লে অবরোধ বা মিছিল কত বড় হবে মাথায় রাইখেন? বার বার কথা দিয়ে কথা রাখেননি শ্রমিক ভাইয়েরা, অনুরোধ থাকবে যাত্রী কিন্তু আমরা। এই শহর যানজটমুক্ত নিরাপদ রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব এবং কর্তব্য। সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন (২৩৫৯) এর কুলাউড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলমাছ আহমদ বলেন, আমাদের শ্রমিকদের জরিমানা করে আটক করা হয়েছে। তাদের মুক্তির দাবিতে আমরা আন্দোলন করেছি। আমাদের ৫ দফা দাবি না মানলে আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ করে রাখবো।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, যানজট নিরসনে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক মোবাইল কোর্ট অভিযানে আটক ব্যক্তিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং বাকি তিনজন শ্রমিককে মুছলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সড়কের শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার বলেন, কুলাউড়া পৌর শহরের যানজট নিরসনে গত ১৩ আগস্ট উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত পরিবহন শ্রমিকদের নিয়ে বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিগণের উপস্থিতিতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি স্ট্যান্ডে ২টি করে গাড়ি রাখার সিদ্ধান্তসহ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সোমবার থেকে তা কার্যকর হয়। কিন্তু চিত্র সেই আগের মতো হওয়ায় আজ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার। জনস্বার্থে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

