মৌলভীবাজারে দুর্গাপূজার জন্য প্রস্তুত ১০২২টি পূজামণ্ডপ

বিশেষ প্রতিনিধি: হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার জুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে এবং পূজা মণ্ডপগুলো সাজিয়ে তুলতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পী ও কারিগররা।

উৎসবটি উদযাপনের লক্ষ্যে জেলার সাতটি উপজেলা ও পাঁচটি পৌরসভা জুড়ে মোট ১০২২টি পূজা মণ্ডপ প্রস্তুত করা হচ্ছে। কারিগররা এখন দেবী দুর্গার প্রতিমায় শেষ মুহূর্তের কাজ সম্পন্ন করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এবং বিভিন্ন মণ্ডপে বর্ণিল সাজসজ্জার কাজ চলছে।

১৬ অক্টোবর ‘মহা ষষ্ঠী’ ও দেবী দুর্গার ‘বোধন’ বা আনুষ্ঠানিক জাগরণের মধ্য দিয়ে উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ১৭ অক্টোবর মহা সপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহা অষ্টমী এবং ২০ অক্টোবর মহা নবমীর মধ্য দিয়ে উদযাপনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। পরিশেষে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

সনাতন হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর মহালয়া উদযাপিত হয়, যা দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশের সূচনা নির্দেশ করে।

মোট ১০২২টি পূজা মণ্ডপের মধ্যে মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ১১১টি, শ্রীমঙ্গলে ১৭২টি, কমলগঞ্জে ১৫৪টি,  রাজনগরে ১৩৬টি, কুলাউড়ায় ২২৭টি, জুড়ীতে ৭৬টি এবং বড়লেখায় ১৪৬টি মণ্ডপ রয়েছে।

বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, প্রতিমা তৈরির কাজে কারিগররা মাটি, বাঁশ, কাঠ, খড় ও পাটের রশি নিয়ে পুরোদমে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাঁদের অনেকেই জানিয়েছেন যে, উৎসব শুরুর আগেই প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। প্রতিমা শিল্পী রঞ্জিত পাল জানান, প্রতিমা তৈরি তাঁর পরিবারের পৈতৃক পেশা। ছোটবেলায় পড়াশোনার পাশাপাশি আমি এই শিল্পটি শিখেছিলাম। পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখার তাগিদে প্রতিমা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।” রঞ্জিত পাল জানান, প্রতি বছর পূজার মৌসুমে তিনি প্রায় এক থেকে দেড় মাস ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করেন। তিনি আরও বলেন, “এ বছর আমি সাতটি প্রতিমা তৈরি করছি। এর মধ্যে পাঁচটির কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং বাকি দুটির কাজ পূজা শুরুর আগেই সম্পন্ন হয়ে যাবে। এরই মধ্যে, জেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে চলছে জমকালো সাজসজ্জার কাজ।

ঢাকার সাজসজ্জা শিল্পী বিকাশ মল্লিক জানান, শহরের একটি পূজা মণ্ডপ সাজানোর জন্য তিনি মৌলভীবাজার এসেছেন।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজা শুরুর আগেই পুরো সাজসজ্জার কাজ শেষ করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”

মৌলভীবাজার পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মহিম দে বলেন, মৌলভীবাজারে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে। “অতীতে মৌলভীবাজারে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়েছে এবং আমরা আশা করি এ বছরও একই পরিবেশ বজায় থাকবে। মোট ১০২২টি মণ্ডপে প্রস্তুতি চলছে। উৎসব চলাকালে পূজা মণ্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান, তিনি বলেন, মৌলভীবাজার জেলার ৮০ ভাগ পূজা মণ্ডপ সিসিটিভির নজরদারির আওতায় আনার কাজ চলছে। প্রতিটি উপজেলার ইউএনওরা আমাদের সহযোগিতা করায় আমাদের কাজ অনেকটা সহজ হচ্ছে।

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোভেল চাকমা বলেন, পূজা মণ্ডপগুলোতে কোন রকমের অপ্রীতিকর অবস্থা যাতে না ঘটে তার জন্য ইতোমধ্যেই চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন স্তর ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গের সাথে আমরা বসে আলোচনা করে আমাদের কার্যক্রম ঠিক রাখবো যাতে কোন রকমের বিশৃঙ্খলা না হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *